ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০, স্থানীয় সময়: ০৬:৩২:৫৫

নিউজিল্যান্ডকে প্রথম হারের স্বাদ দিয়ে শীর্ষে ভারত

| ৭ কার্তিক ১৪৩০ | Sunday, October 22, 2023

ধর্মশালা: চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম হারের স্বাদ দিলো স্বাগতিক ভারত। আজ নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ভারত ৪ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে। এতে টুর্নামেন্টের একমাত্র দল হিসেবে এখনো অপরাজিত থাকা ভারত ৫ খেলায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠলো। ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে নেমে গেল নিউজিল্যান্ড।
ড্যারিল মিচেলের ১৩০ রানের সুবাদে ভারতের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৭৩ রান করে নিউজিল্যান্ড। এবারের বিশ^কাপে প্রথমবারের মত খেলতে নেমে ৫৪ রানে ৫ উইকেট নেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সামি। জবাবে বিরাট কোহলির ৯৫ রানের কল্যাণে ১২ বল বাকী রেখে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। ম্যাচ সেরা হন সামি।
ধর্মশালায় টস জিতে প্রথমে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ভারত। ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। রানের খাতা খোলার আগের নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ডেভন কনওয়েকে সাজঘওে পাঠান মোহাম্মদ সিরাজ। নবম ওভারে আরেক ওপেনার উইং ইয়ংকে ১৭ রানে থামিয়ে দেন সামি।
১৯ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ভারতীয় বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন রবীন্দ্র ও মিচেল। ২১তম ওভারে নিউজিল্যান্ডের রান ১শতে নেন তারা। ২৩তম ওভারে ওয়ানডেতে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ৫৬ বল খেলা রবীন্দ্র। ২৭তম ওভারে ওয়ানডেতে পঞ্চম অর্ধশতক করেন ৬০ বল খেলা মিচেল। ৩০তম ওভারে জাদেজার বলে মিচেলের ক্যাচ ফেলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুল। তখন ৫৯ রানে ছিলেন মিচেল। এরপর ব্যক্তিগত ৭০ রানে স্পিনার কুলদীপ যাদবের বলে বুমরাহর হাতে জীবন পান মিচেল।
১২ রানে জীবন পাওয়া রবীন্দ্রকে ইনিংসের ৩৩তম ওভারে ফিরিয়ে ভারতকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন সামি। ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৭ বলে ৭৫ রান করেন বিশ^কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা রবীন্দ্র। তৃতীয় উইকেটে মিচেলের সাথে ১৫২ বলে ১৫৯ রান উপহার দেন রবীন্দ্র। বিশ^কাপে ভারতের বিপক্ষে যেকোন উইকেটে এটিই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের জুুটি। এতে ভেঙে যায় ৪৪ বছরের পুরনো রেকর্ড। ভারতের বিপক্ষে বিশ^কাপে এতদিন সর্বোচ্চ রানের জুটির মালিক ছিলেন জন রাইট ও ব্রুস এডগার। ১৯৭৯ সালের বিশ^কাপে লিডসে উদ্বোধনী জুটিতে ১০০ রান করেছিলেন রাইট ও এডগার।
রবীন্দ্রর বিদায়ে উইকেটে এসে দুই অংকের কোটা পার করতে পারেননি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। কুলদীপের প্রথম শিকার হয়ে ৫ রানে আউট হন ল্যাথাম। এরপর গ্লেন ফিলিপসকে নিয়ে ৪১তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন মিচেল। বিশ^কাপে ভারতের বিপক্ষে চার নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটার হলেন মিচেল।
মিচেল-ফিলিপস ক্রিজে থাকা অবস্থায় ৪০ থেকে ৪৫ ওভারে মাত্র ২৮ রান পায় নিউজিল্যান্ড। ৪৫তম ওভারে ফিলিপসকে ২৩ রানে থামিয়ে নিউজিল্যান্ডের উপর চাপ বাড়ান কুলদীপ। মিচেলের সাথে জুটিতে ৪৫ বলে ৩৮ রান তুলেছিলেন ফিলিপস।
ফিলিপস ফেরার পর নিউজিল্যান্ডের পরের ব্যাটারদের দুই অংকের কোটা স্পর্শ করতে দেননি ভারতীয় পেসার সামি। অন্যপ্রান্তে মিচেল থাকলেও দ্রুত রান তুলতে পারেননি তিনিও। সামির তোপে ৫০ ওভারে ২৭৩ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। শেষ ৬ ওভারে ৬ উইকেটে হারিয়ে মাত্র ৩০ রান তুলতে পারে নিউজিল্যান্ড। সামির শিকার হবার আগে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১২৭ বলে ১৩০ রান করেন মিচেল।
ভারতের সামি ১০ ওভারে ৫৪ রানে ৫ উইকেট নেন। ৯৪ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মত ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন সামি। প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে বিশ^কাপে দু’বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি।
২৭৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ভারতকে ১১ ওভারে ৭১ রানের দারুন সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। তবে ৫ রানের ব্যবধানে ভারতের দুই ওপেনারকে বিদায় করেন নিউজিল্যান্ডের পেসার লুকি ফার্গুসন। ৪টি করে চার-ছক্কায় ৪০ বলে ৪৬ রান করেন রোহিত। ৫টি চারে ৩১ বলে ২৬ রান তুলে ফিরেন গিল।
৭৬ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর জুটি গড়ার চেষ্টা করে সফল হন বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ার। ৪৯ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন তারা। ডিপ স্কয়ার লেগে কনওয়ের দারুন ক্যাচে আইয়ারকে ৩৩ রানে আউট করে জুটি ভাঙ্গেন পেসার ট্রেন্ট বোল্ট।
আইয়ারের পর চতুর্থ উইকেটে লোকেশ রাহুলকে নিয়ে আবারও হাফ-সেঞ্চুরির জুটি গড়ে ভারতকে লড়াইয়ে রাখেন কোহলি। ৩৩তম ওভারে স্যান্টনাারের ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন রাহুল। নিউজিল্যান্ডের রিভিউতে আউট হবার আগে ৩টি চারে ২৭ রান করেন রাহুল।
রাহুলের বিদায়ে ক্রিজে আসেন এ বিশ^কাপে প্রথমবারের মত খেলতে নামা সূর্যকুমার যাদব। স্যান্টনারের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রান আউট হয়ে ২ রানে বিদায় নেন সূর্য। ১৯১ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত।
এ অবস্থায় জাদেজাকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন কোহলি। সাবধানে খেলে ৮৩ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়ে ভারতের জয়ের পথ সহজ করেন কোহলি। কিন্তু জয় থেকে ৫ রান দূরে থাকতে হেনরির বলে নার্ভাস নাইন্টিতে আউট হন কোহলি। ওয়ানডেতে ৬৯তম হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৪ বলে ৯৫ রান করেন কোহলি। এই ইনিংসে এই বিশ^কাপে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন কোহলি।
কোহলি ফেরার পর সামিকে নিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন জাদেজা। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন জাদেজা। ১ রানে অপরাজিত থাকেন সামি। নিউজিল্যান্ডের ফার্গুসন নিয়েছেন ২ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
নিউজিল্যান্ড : ২৭৩/১০, ৫০ ওভার (মিচেল ১৩০, রবীন্দ্র ৭৫, সামি ৫/৫৪)।
ভারত : ২৭৪/৬, ৪৮ ওভার (কোহলি ৯৫, রোহিত ৪৬, ফার্গুসন ২/৬৩)।
ফল : ভারত ৪ উইকেটে জয়ী।