ঢাকা, এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ৫ বৈশাখ ১৪২৬, স্থানীয় সময়: ০২:৩৭:৫৪

মুখ ও দাঁতের রোগ প্রতিরোধের উপায়

| ১৮ চৈত্র ১৪২৫ | Monday, April 1, 2019

 

দাঁত ভালো রাখতে চিনিযুক্ত খাবার কম খান। ছবি : সংগৃহীত

মুখ ও দাঁতের রোগ নিয়ে অনেকেই সচেতন হন না। তবে মুখ ও দাঁতের রোগ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে হৃদপিণ্ড, লিভার, মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্পূর্ণ অঙ্গ। তাই মুখ ও দাঁতের রোগ প্রতিরোধ করা জরুরি।

এ বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ডেন্টাল রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. পি সি মল্লিক ও রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড ও রাজ ডেন্টাল সেন্টারের প্রধান পরামর্শক ডা. আশাফুজ্জোহা রাজ। অনুষ্ঠানটি এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন- এর ৩৩৮২তম পর্বে প্রকাশিত হয়েছে।

এনটিভি : মুখ ও দাঁতের রোগ যেন না হয় সেই জন্য প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কী করণীয়?

ডা. পি সি মল্লিক : প্রথমে আমি কয়েকটি কথা বলব, আপনার খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে। চিনিযুক্ত ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবারগুলো কম খান। নিয়মিত খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করুন। আয়নার যদি দাঁত ও মুখের ক্ষয় পরীক্ষা করার মতো সুযোগ থাকে, সেটি করুন। সেটি করার পরও নিয়মিত ছয় মাস পর পর ডেন্টাল সার্জনের কাছে পরামর্শ নিন। আপনার ছোটখাটো যেই ক্ষয়, সেটি আপনি নির্ণয় করতে পারবেন না। চিকিৎসকরা সেটি নির্ণয় করবে। সামান্য চিকিৎসা দিলে আপনি সুস্থ থাকবেন। দাঁত ক্ষয় টিউমার বা সিস্টের জন্ম দেয়। এটি থেকে দাঁত ভেঙে ভেঙে ধারালো দাঁত হয়ে ক্যানসার হতে পারে। এটি একটি বিষয়।

একটি বাচ্চার হয়তো দুই বা এক বছর, কিন্তু তার হয়তো সমস্ত দাঁত ক্ষয়ে গেছে। এই দাঁতগুলো যে ভবিষতে দাঁতের গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে, সেটি অনেকে বোঝে না। অনেক আধুনিক পরিবারেও এটি হচ্ছে। শিশুকে তখন চিকিৎসা দেওয়াও কঠিন, তাকে বোঝানোও কঠিন। আমরাই বিব্রত হয়ে যাই। এর কারণ হলো, রাতের বেলা বাচ্চা ফিডার খাচ্ছে, বুকের দুধ খাচ্ছে। আমরা তার দাঁত পরিষ্কার করে দিচ্ছি না। খেতে খেতে বাচ্চা ঘুমিয়ে যায়। দাঁতে এই তরলগুলো থেকে গেলে, এগুলো থেকে দাঁত ক্ষয় হয়।

আর এই খাবারগুলো যদি দিতেই হয়, তাহলে কোনো কাপড় বা ন্যাপকিন দিয়ে হলেও দাঁত পরিষ্কার রাখতে হবে। আর না হলে সব দাঁতগুলো ক্ষয় হয়ে যাবে। এই রোগ থেকে কেবল দাঁতের রোগ নয়, মাড়ির রোগ হবে, মাড়ি থেকে হার্টের রোগ হবে।

অটিস্টিক শিশু যারা রয়েছে, তারা দাঁতের যত্ন নিতে দেয় না। এখানে বিশেষভাবে যদি ডেন্টাল সার্জনদের কাছে পরামর্শ নেন, তাহলে ভালো হয়। দেখা গেল, ব্রাশ করতে দিল না রাতে, কেবল মাউথ ওয়াশ দিয়ে গার্গল করালেন, তাহলেও ভালো।

অনেকে তামাক নিচ্ছেন, ধূমপান করছেন, পান সুপারি খাচ্ছেন। এগুলোতে কিন্তু মুখের রোগের পরিমাণ অনেক  হচ্ছে।

ডা. আশাফুজ্জোহা রাজ :  ধূমপানের ব্যাপারে কিন্তু সতর্ক করা হয়। কিন্তু পান সুপারি থেকে সমস্যা হতে পারে সেই বিষয়টি মেনে চলেন না। জর্দা কিন্তু মুখের জন্য সিগারেটের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর।

ডা. পি সি মল্লিক : আমরা সমস্ত পর্যায় গিয়ে টুথপেস্ট ও টুথব্রাশ পৌঁছাতে পারিনি। এই সচেতনতাটা খুবই বড় ব্যাপার। কোনো কোনো রোগীরা বলছে, আমি আঙুল দিয়ে, পাউডার দিয়ে দাঁত ব্রাশ করছি। আঙুল দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে কখনোই আপনার পেস্ট পৌঁছাতে পারবে না। সেখানে খাদ্যকণা থেকেই যাবে। রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

মেসওয়াক দিয়ে যেটা করা হয়, সেটি কিন্তু বিজ্ঞান সম্মত। এটি দিয়ে খাদ্যকণাগুলো বের হতে পারে। এর পরিবর্তে যে আধুনিক ব্রাশ ও পেস্ট এসেছে, আমরা সবাই চেষ্টা করব- এগুলো ব্যবহার করার জন্য।

প্রতিটা গ্রামের স্কুল পর্যায়ে একটি পেস্ট, একটি ব্রাশ বাচ্চাকে উপহার দেওয়া যেতেই পারে। এই বিষয়টিকে কাজে লাগাতে চাইলে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।