ঢাকা, নভেম্বর ২০, ২০১৭, ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৪, স্থানীয় সময়: ১৩:২০:৩৪

ঝুঁকিপূর্ণ মায়ের গর্ভধারণে সতর্কতা

স্বাস্থ্য ও বিনোদন | ২৬ ভাদ্র ১৪২৪ | Sunday, September 10, 2017

 

অনেক সময় গর্ভ ধারণ করার পরও গর্ভপাতজনিত জটিলতার কারণে অনেক মা সন্তান জন্মদানে ব্যর্থ হন। এই মায়েদের ঝুঁকিপূর্ণ মা বলা হয়। পরবর্তীকালে এসব মা সন্তান জন্ম দিতে চাইলে কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে?

এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের  ২৮৪১তম পর্বে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল।

প্রশ্ন : ঝুঁকিপূর্ণ মায়েরা গর্ভধারণ করতে গেলে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেন?

উত্তর : আসলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যাদের বারবার গর্ভপাতের ইতিহাস রয়েছে, তাদের সাধারণ মানুষ অনেক বেশি পরামর্শ দিয়ে থাকে। বিছানা থেকে নামবেন না, প্রায় এ রকম বিশ্রামের কথা বলে থাকেন। এটা আসলে মূল্যহীন কথা। একজন মা স্বাভাবিক সব কাজকর্ম করবেন।

যদি দেখি, উনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন বা খুবই শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় তাঁকে, কিংবা অনেক মানসিক যন্ত্রণা পোহাতে হয়, তাহলে সেই কাজ থেকে আমরা বিরত থাকতে বলি। তবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সে স্বাভাবিক নিয়মে তাঁর দৈনন্দিন কাজকর্ম করবে। বিশেষভাবে বিশ্রাম নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি গেল এক রকম কথা।

আমরা কারণটি খুঁজতে চাই? অনেক সময় দেখা যায় জরায়ুতে যেখানে বাচ্চা থাকবে, বড় হবে সেখানে গঠনগত কোনো ত্রুটি রয়েছে। এটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখতে পাই। হয়তো জরায়ুর ভেতর যথেষ্ট জায়গা নেই একটি বাচ্চাকে পরিপূর্ণ ভ্রূণে পরিণত করার, সে ক্ষেত্রে তখন অস্ত্রোপচার করে সেই কাজটি ঠিক করা যায়। কিছু কিছু মায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো কারণে জরায়ুর মুখ শিথিল হয়ে গেছে। এর আগে হয়তো কখনো ডিএনসি হয়ে থাকতে পারে বা কোনো অস্ত্রোপচার হয়ে থাকতে পারে। তখন যদি আমরা দেখি যে জরায়ুমুখ শিথিল হওয়ার কারণে বাচ্চাটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে যাওয়ার পরে সেটা আর জরায়ুতে থাকছে না, বের হয়ে চলে আসছে, তখন আমরা এই কারণটি পেলে জরায়ুমুখকে সেলাই দিয়ে কেটে দিই। ঠিক বাচ্চাটা যখন পরিপূর্ণ হয়, প্রসবের আগে আমরা সেলাইটি কেটে দিই। এটি একধরনের চিকিৎসা।

আর এরপর আমরা প্রতিমুহূর্তে দেখতে থাকি রক্তে সুগার বাড়ছে কি না, মায়ের উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে কি না, কিংবা মায়ের জীবনযাত্রা ঠিক আছে কি না, সঠিক পুষ্টি পাচ্ছেন কি না, কিংবা যদি দেখা যায় দীর্ঘমেয়াদে কোনো সংক্রমণে ভুগছেন, সেই সংক্রমণ প্রতিরোধ করছে কি না। এসব বিষয় খেয়াল করলে একজন মা সফলভাবে একটি সুস্থ শিশু জন্ম দিতে পারেন।

প্রশ্ন : যেসব মায়ের বারবার গর্ভপাত হচ্ছে, তাঁদের বেলায় সন্তান জন্মদানের ঝুঁকি কি একই রকম?

উত্তর : এটা যদি আগের কোনো ইতিহাস থাকে, হয়তো শেষে গিয়ে বাচ্চাটি গর্ভে মারা যায়, হতে পারে সেটা ৩৭ সপ্তাহ কিংবা ৩৮ সপ্তাহ, একেবারে প্রসবের সময়ের কাছাকাছি গিয়ে এ রকম হয়- পরপর যদি এ রকম ঘটনা ঘটে থাকে, সতর্ক হতে হবে। তখন যেটা আমরা করি যেই সপ্তাহে গেলে বাচ্চাটি মারা যায় বা সমস্যা তৈরি হয়, ঠিক তার এক সপ্তাহ আগে বাচ্চাটিকে বের করে ফেলার ব্যবস্থা করি, যেন ওই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে সে আর না যায়।

আর এই বাচ্চাগুলো অবশ্যই হাসপাতালে প্রসব হতে হবে। এমন একটি হাসপাতাল যেখানে জন্মের পরে বাচ্চার যদি কোনো রকম সমস্যা হয়, তার যেন চিকিৎসা করা যায়। সেই সব জায়গাতে গিয়ে বাচ্চাটির জন্ম হওয়া ভালো।