ঢাকা, ডিসেম্বর ৭, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ন ১৪২৯, স্থানীয় সময়: ০৫:৪২:২৩

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

জাকির নায়েককে আমন্ত্রণ করায় বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক বিজেপির প্রকৃতির ক্ষতি করে এমন প্রকল্প গ্রহণ না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের নয়া রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ জঙ্গিবাদের বিশ্বস্ত ঠিকানা বিএনপি : ওবায়দুল কাদের দশ কৃতী নারী পেলেন অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় চালানো সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ইনশাল্লাহ আগামী মাস থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানির ভোগান্তি হবে না : প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ হাওয়া ভবনের বড় চোর ও সন্ত্রাসীদের হাতে দেশ তুলে দেয়া যাবে না : তথ্যমন্ত্রী সরকারকে হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ শুরু: ফখরুল 

বাড়ছে শিশুরোগ

| ২৬ ভাদ্র ১৪২৯ | Saturday, September 10, 2022

প্রতীকী ছবি

জারিয়ান আহনাফের বয়স দুই বছর তিন মাস। কিছুদিন আগে ওর হাতে-পায়ে-মুখে ফুসকুড়ি দেখা যায়। হাতে একটু একটু থাকলেও পরে তা বেড়ে যায়। হাতে, মুখে, পায়ে, হাঁটুতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তার জ্বর ছিল না। তবে ফুসকুড়িগুলো চুলকাতো।

 

চিকিত্সকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানান, বিশেষ একটি ভাইরাসের কারণে তার ‘হ্যান্ড-ফুট-মাউথ’ রোগ হয়েছে। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ, পাঁচ থেকে সাত দিন থাকবে। একই রকম উপসর্গ দেখা দেয় প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মাইসা জাবিনের। তার হাত-পায়ে-মুখের মধ্যে বড়দের ব্রোনের মতো ফোসকা হয়। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলে মা তার হাতে কয়েকটি ফোসকা দেখতে পান। পরে তা শরীরের অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। মুখের ভেতরেও হয় বলে সে কিছুই খেতে পারে না।

 

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছে, কক্সস্যাকি ভাইরাস নামে একটি ভাইরাসের কারণে এ রোগ হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে দেশে এই রোগ দেখা যায়। এই রোগে মৃত্যু কিংবা গুরুতর অবস্থা হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও অনেক বেশি ছোঁয়াচে বলে রোগীকে পৃথক ও সাবধানে রাখার পরামর্শ দেন তারা। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ না থাকলেও অবস্থা অনুযায়ী চিকিত্সকরা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন।

hand

কী এই ‘হ্যান্ড-ফুট-মাউথ’ বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-২ (মা ও শিশু)-এর নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. অমৃত লাল হালদার ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিদিন ১০ জন রোগীর মধ্যে দুই থেকে তিন জন ‘হ্যান্ডফুটমাউথ’ রোগে আক্রান্ত শিশু আসে। এ বছর রোগটির প্রকোপ বেশি। সাধারণত ভাইরাসের প্রভাবে ‘হ্যান্ডফুটমাউথ’ রোগ হলে গা ব্যথা, মাথা ব্যথা জ্বরসহ গায়ে র‌্যাস দেখা দেয়। কারো কারো জ্বর নাও হতে পারে। চামড়ার ওপরে হাতে, পায়ের পাতায়, কনুই ও হাঁটুতে ফুসকুড়ি দেখা যায়। রোগটি সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। অনেক শিশুর মুখের মধ্যেও ফুসকুড়ি হয়। ফলে ব্যথার জন্য শিশু সহজে খেতে পারে না। তবে খাওয়ায় অরুচি থাকে না। খাবারের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু এলার্জি হয় যে সব খাবারে, রোগীকে তা না দেওয়াই ভালো।                                                                                                                                                                                                           দেশের খ্যাতনামা শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা ইত্তেফাককে বলেন, কয়েক বছর আগে আমাদের দেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ বছর বেশি দেখা যাচ্ছে। আমি প্রতিদিন হ্যান্ডফুটমাউথে আক্রান্ত ৮ থেকে ১০ জন শিশুকে পাচ্ছি। সাধারণত এক বা দেড় বছর বয়স থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের এ রোগ হয়। এর মধ্যে পাঁচ বছর বয়সিদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। রোগ খুব ছোঁয়াচে বলে রোগীকে পৃথক রাখার পরামর্শ দেন চিকিত্সকরা। ফুসকুড়িগুলো দুই তিন দিনের মধ্যে রসালো দেখা যায়। এ সময় ফেটে গেলে সেই রস কারো গায়ে লাগলে তার এই রোগ হতে পারে। আবার রোগীর সংস্পর্শে এলে হাত মেলালে, হাঁচি-কাশি থেকেও রোগটি ছড়াতে পারে। এগুলোকে অনেকে বসন্ত ভেবে ভুল করেন। কিন্তু এটি বসন্ত রোগ না।

foot

বর্ষার শেষে বেশি হয়
অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা জানান, সাধারণত বর্ষার শেষে ও শরতের শুরুতে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এ রোগ হয়। বারডেম জেনারেল হাসপাতাল -২ (মা ও শিশু ) হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. সাব্রিনা জসিম জানান, প্রতিদিনই ‘হ্যান্ডফুটমাউথ’ রোগীর শিশুরা তাদের কাছে আসে। অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, শিশু এতে আক্রান্ত হলে তাকে অবশ্যই স্কুলে দেওয়া যাবে না। পরিবারের মধ্যেও একধরনের আইসোলেশনে তাকে রাখতে হবে।

চিকিত্সা কী হবে
চিকিত্সকেরা জানান, এ রোগের কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। অধ্যাপক সহিদুল্লা বলেন, হ্যান্ডফুটমাউথে আক্রান্ত শিশুদের জ্বর হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। আর চুলকানি হলে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ফেক্সো জাতীয় চুলকানির ওষুধ বা ক্যালামাইন দিতে হবে। তাকে যথেষ্ট পানি খাওয়াতে হবে। রোগীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, হাত পরিষ্কার রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং একই সঙ্গে মুখে গোটা হলে না খেতে চাইলে জোরাজুরি না করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকগণ। ডা. অমৃত লাল হালদার বলেন, অসুখ যাতে ছড়াতে না পারে, মলমূত্র যেন স্বাভাবিক হয় সে দিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।