ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০, স্থানীয় সময়: ০৭:১৯:১৫

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও উপনেতা আনিসুল ইসলাম রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় আসার নিশ্চয়তা না পেয়ে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে : প্রধানমন্ত্রী মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষের সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি হিসেবে ফের নিয়োগ পেলেন বিপ্লব বড়ুয়া সংসদ অধিবেশন উপলক্ষে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ সংসদে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে স্বতন্ত্র সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা স্বতন্ত্রই থাকবে: ওবায়দুল কাদের ঢাকা জেলায় সোয়া ৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে দেশের প্রাণিসম্পদের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এমভিসি

প্রকল্প বাস্তবায়নে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে পিপিপি

| ২৮ অগ্রহায়ন ১৪৩০ | Tuesday, December 12, 2023

॥ একেএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী ॥
ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩ (বাসস) : চালু হওয়ার মাত্র এক যুগেই বাংলাদেশে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতি প্রকল্প বাস্তবায়নে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে এবং মানুষ ইতোমধ্যে এর অধীনে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সুবিধা পেতে শুরু করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে পরিবহন, পানি, স্বাস্থ্য, আইটি ও বন্দরের মতো বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত ৮০টি প্রকল্পের একটি শক্তিশালী পাইপলাইন রয়েছে, যার আনুমানিক বিনিয়োগ মূল্য ৪২.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব প্রকল্পের মধ্যে কিছু প্রকল্প ইতোমধ্যে চালু আছে, কিছু আংশিকভাবে চালু আছে, কিছু বাস্তাবয়নাধীন, বেশ কয়েকটি প্রকল্প প্রকিউরমেন্ট পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েকটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষার  অধীনে রয়েছে।
বাসসের সাথে আলাপকালে পিপিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) ড. মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (এনআইকেডিইউ) এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (সিএমসিএইচ) অধীনে একটি পিপিপি প্রকল্পের হেমোডায়ালাইসিস সেন্টারের দুটি ইউনিট রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস পরিষেবা প্রদান করছে, যা ইতিমধ্যে অনেকের নজর কেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও পূর্বাচল পানি সরবরাহ নামে দুটি প্রকল্প আংশিকভাবে চলছে। এসব প্রকল্প ইতোমধ্যে দেশের অবকাঠামো ও পরিষেবায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি জানান, ছয়টি প্রকল্প নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে, দশটি প্রকল্প কন্ডিশন প্রসিডেন্ট (সিপি) পর্যায়ে, ১৭টি প্রকল্প প্রকিউরমেন্ট পর্যায়ে এবং ২৮টি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, পিপিপি কর্তৃপক্ষ কতগুলো মেগা প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে, যা সামগ্রিকভাবে জাতির উন্নয়নের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘কিছু উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- ঢাকা বাইপাস টোল রোড, গাবতলী-সাভার-নবীনগর পিপিপি রোড, আউটার রিং রোড, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে, ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রোড, ঢাকা শহরের চারপাশে সার্কুলার রেললাইন, বে টার্মিনাল এবং চট্টগ্রামে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল। পূর্বাচল নিউ টাউনে স্যুয়ারেজ, ড্রেনেজ সিস্টেম ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, খুলনা খান জাহান আলী বিমানবন্দর, ইনফো-সরকার-ফেজ-৩, পাটুরিয়া-গোয়ালন্দাত দ্বিতীয় পদ্মা বহুমুখী সেতু, ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-২-এর ওঅ্যান্ডএম, কমলাপুর ও বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশনে মাল্টিমোডাল হাব এবং ঢাকা ইষ্ট ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।’
২০১০ এর দশকের গোড়ার দিকে যখন সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, তখন বাংলাদেশে পিপিপি কর্তৃপক্ষ যাত্রা শুরু করে। ২০১০ সালে একটি নিবেদিত পিপিপি নীতি চালু করা হয়, যা বেসরকারি খাতের সাথে জড়িত হওয়ার জন্য আরও কাঠামোগত পদ্ধতির জন্য মঞ্চ স্থাপন করে। এই নীতিটি ২০১৫ সালের পিপিপি আইনের ভিত্তি স্থাপন করে, যা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের কাঠামোকে আনুষ্ঠানিক করে তোলে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিপিপি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পিপিপি প্রকল্পগুলো চিহ্নিতকরণ, অগ্রাধিকার প্রদান ও নির্বাচন করার জন্য সক্রিয়ভাবে তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিন্ন লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার জন্য নির্দেশিকা ও নিয়ম-নীতি প্রণয়নে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
মুশফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা রূপকল্প ২০৪১-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য পিপিপি কর্তৃপক্ষ এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের ভিত্তিমুলে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (৮এফওয়াইপি) অনুযায়ী বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, পর্যটন, আইসিটি, শিক্ষা, আবাসন, কৃষি ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে পিপিপি’র মাধ্যমে ফোকাস করেছে। পিপিপিকে জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসাবে গড়ে তুলে বিনিয়োগের ব্যবধান ঘোচাতে এবং অবকাঠামোগত চাহিদা মেটাতে ব্যক্তিগত খাতের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য৷ পিপিপির কাঠামোর বর্ণনা দিয়ে রহমান বলেন, পিপিপি অ্যাক্ট ২০১৫, বিভিন্ন নির্দেশিকা ও নিয়মসহ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের জন্য একটি মানসম্মত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি নিশ্চিত করে। এই নির্দেশিকাগুলোর মধ্যে কিছু পিপিপি প্রকল্প প্রকিউরমেন্ট নির্দেশিকা (২০১৮), অযাচিত প্রস্তাবের নির্দেশিকা (২০১৮), জি২জি নীতি (২০১৭), জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প বিধি (২০১৮), এবং পিপিপি প্রকল্পের কার্যকারিতা গ্যাপ ফান্ডিং (ভিজিএফ)-এর বিধিমালা (২০১৮) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের পিপিপি প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য আকৃষ্ট করতে বেশ কিছু প্রণোদনা চালু করেছে। এই প্রণোদনার মধ্যে রয়েছে: আয়কর ছাড়, প্রবাসী কর অব্যাহতি, ভ্যাট ছাড়, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন অব্যাহতি এবং কার্যকারিতা গ্যাপ ফাইন্যান্সিং। তিনি বলেন, পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যানের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার উন্নয়নের গতিপথ অব্যাহত রাখতে চায়। বিশ্বব্যাপী চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য ফরেন ডাইক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আকৃষ্ট করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য সরকারের নীতি, সেই সাথে ২০২৫ সালের মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগকে জিডিপি’র ২৭.৪ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি, বিনিয়োগের পরিবেশের উন্নতির দিকে একটি সক্রিয় অবস্থান প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে পিপিপি কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। পিপিপি কর্তৃপক্ষ এই প্রচেষ্টাগুলোর অগ্রভাগে থেকে প্রকল্পগুলো সুচিন্তিত, স্বচ্ছ এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হওয়া নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের জন্য দেশের অঙ্গীকার এবং ভিশন ২০৪১ অপরিসীম প্রতিশ্রুতিশীল। তবে এর জন্য কার্যকর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রয়োজন রয়েছে। অগ্রগতি বজায় রাখতে এবং আরো বেগবান করতে সরকারকে অবশ্যই বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে হবে, প্রকল্প বাস্তবায়ন সমন্বয় করতে হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও সংস্কার বাস্তবায়নে দঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাংলাদেশ সফল পিপিপির মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান প্রকল্প বাস্তবায়নে পিপিপি পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করার জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনটি নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পিপিপি পদ্ধতির মাধ্যমে বেসরকারি খাত সরকারি প্রকল্পগুলোতে দক্ষতা, উদ্ভাবন ও পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে আসে, যা প্রায়শই এর গুণমান উন্নত করার সাথে সাথে পরিষেবা বিধানের ব্যয় হ্রাস করে।’ বাংলাদেশে পিপিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মস্তিষ্কপ্রসূত উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসাবে পিপিপি কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।