ঢাকা, নভেম্বর ২২, ২০১৮, ৮ অগ্রহায়ন ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ১৭:২৭:২০

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক কাল ‘বাংলাদেশকে আর কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না’ মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজদেশে ফেরত নিতে হবে : ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিখোঁজ’ হওয়ার সংবাদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন প্রধানমন্ত্রীত্বকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখি : প্রধানমন্ত্রী কোনো দলই নিল না আশরাফুলকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তারেক রহমান

দেশের খবর, প্রধান সংবাদ | ২২ কার্তিক ১৪২৫ | Tuesday, November 6, 2018

 Image result for তিন কারণে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারের মন্ত্রিসভার টেকনোক্র্যাট কোটার চার মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন-ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। মঙ্গলবার (০৬ নভেম্বর)  মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেওয়ার পর  তারা চারজনই পদত্যাগ করেন।

সূত্র জানায়, আপাতত অন্য কোনও মন্ত্রী এই মুহূর্তে পদত্যাগ করছেন না। শুধু টেকনোক্র্যাট কোটার মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এরমধ্যে প্রথম কারণ হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের গত মেয়াদেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের সঙ্গে অন্য কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী গত মেয়াদের মতো এবারও টেকনোক্র্যাট  মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনা করতে চান। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তার সরকারের টেকনোক্র্যাটদের বাদ দিতে চান। কারণ জনগণের জন্য নির্বাচনকে জনগণের প্রতিনিধিদের দিয়েই পরিচালনা করতে চান। তাই আপাতত কোনও টেকনোক্র্যাট  মন্ত্রী নয়। তৃতীয় কারণ হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও দলের সঙ্গে সংলাপে কোনও দল ও জোট যেন নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করতে না পারেন, সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়াও এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি বড় কারণ। নিজ সরকারের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অন্যকে জানিয়ে দিলেন, তার নেতৃত্বে আগামী দিনের নির্বাচনকালীন সরকারে আর কোনও টেকনোক্র্যাট নয়।

এদিকে, ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (০৬ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইন অনুযায়ী সবাই নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলবেন। সরকারি গাড়ি ব্যবহারসহ কোনও ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবেন না। আইন অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি প্রচারণার সময় সরকারি কোনও সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন না মন্ত্রী বা এমপিরা।’

বৈঠকে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার। তবে, তফসিল ঘোষণার পর এ সরকারের কার্যপরিধি কমে যাবে। গত নির্বাচনের আগে ছোট আকারে নির্বাচনকালীন সরকার করার কথা ভাবা হয়েছিল। কারণ, তখন সংসদে বিএনপি ছিল। তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে আনার জন্য সে চিন্তা করা হয়েছিল। এখন সে চিন্তা বাদ। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারে অনির্বাচিত কাউকে রাখা যাবে না। তাই এ সরকারকে আর ছোট করার কোনও দরকার নেই।

এদিকে, জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তুত।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘পদত্যাগের বিষয়ে অফিসিয়ালি কিছু পেলে আমরা সামারি করে বঙ্গভবনে পাঠিয়ে দেবো।’ তিনি বলেন, ‘এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আমরা রেডি।’

উল্লেখ্য, বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী, দুজন উপ-মন্ত্রীর সমন্বয়ে। এরমধ্যে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ছিলেন চারজন।