ঢাকা, এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ৫ বৈশাখ ১৪২৬, স্থানীয় সময়: ০২:৪৩:৩২

সুদানের সেনা সদরদপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশে নিহত ১

| ২৪ চৈত্র ১৪২৫ | Sunday, April 7, 2019

 

সুদানের রাজধানী খার্তুমে শনিবার হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ প্রথমবারের মতো সেনা সদরদপ্তরের কাছে পৌঁছে গেছে। ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভটি হল। বিক্ষোভকালে একজন নিহত হয়েছে।

আয়োজকরা সেনা সদরদপ্তর অভিমুখে মিছিলের ডাক দেয়ার একদিন পর বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর রাস্তায় নেমে ‘এক সেনা, এক জনতা’ বলে স্লোগান দেয়। ওই কম্পাউন্ডে বাসারের বাসভবন ও প্রতিরক্ষা দপ্তর অবস্থিত।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এর আগে সংগঠকরা বলেছিলেন, চলতি বছর বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর প্রতি ‘জনগণ অথবা স্বৈরাচারের মধ্যে একটিকে বেছে নেয়ার’ দাবি জানাবে।
বিক্ষোভকারীরা এই সমাবেশে ‘শান্তি, ন্যায়বিচার ও মুক্তি’ বলে স্লোগান দেয়।
বিক্ষোভকারীদের একজন আমির ওমর বলেন, ‘আমরা এখনো আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। তবে আমরা সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আমাদের পক্ষে আসার আহ্বান জানিয়েছি।’
একজন প্রতক্ষ্যদর্শী বলেন, ‘তারা বাশারকে পদত্যাগ করতে বলছে।’
অপর এক বিক্ষোভকারী আদম ইয়াগুব (৪০) বলেন, বাশার আমাদের দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলেছেন। অর্থনৈতিক অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়ে গেছে যে মানুষ এখন ওষুধের অভাবে মারা যাচ্ছে।’
পুলিশ জানায়, রাজধানী জোড়া নগরী ওমদুরমানে এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র জেনারেল হাশিম আব্দেল রহিম বার্তা সংস্থা সুনাকে বলেন, ‘খার্তুম ও অন্যান্য নগরীর সড়কগুলোতে অবৈধ জমায়েত ও আন্দোলন হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ওমদুরমানে বিশৃঙ্খলা চলাকালে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।’
বিক্ষোভটির আয়োজকদের সাহায্যকারী চিকিৎসকদের কমিটি নিশ্চিত করেছে যে নিহত লোকটি একজন চিকিৎসাকর্মী।
কর্মকর্তারা জানান, এই নিয়ে ডিসেম্বর থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভজনিত সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, সরকার বিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত শিশু ও চিকিৎসা কর্মীসহ মোট ৫১ জন প্রাণ হারিয়েছে।

সেনা কম্পাউন্ডে পৌঁছার পরপরই সংগঠকরা সুরক্ষিত দেয়ালের বাইরে বিক্ষোভকারীদের অনড়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার আহ্বান জানান।
সংগঠকরা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা আপনাদের সেনা সদরদপ্তর ত্যাগ না করতে ও আশপাশের রাস্তাগুলোতে অবস্থান করতে বলছি।’
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ও দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লেও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়নি।
সেনা সদরদপ্তরের বাইরে বিক্ষোভকারীদের অবস্থানের কয়েকঘন্টা পর দাঙ্গা পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ঘটনাস্থলের কাছে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা চলায়। এ সময় তারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে মারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ সময় বিক্ষোভকারীরাও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে।
শনিবার রাতেও বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর সদসদপ্তরের বাইরে অবস্থান করছিল।
বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ নেচে গেয়ে আন্দোলন চাঙ্গা করার চেষ্টা করছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘বশির পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এই জায়গা ছেড়ে যাব না।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ক্লান্ত বিক্ষোভকারীরা বাড়ি চলে যাচ্ছে। তাদের স্থানে নতুন বিক্ষোভকারী সেখানে অবস্থান করছে। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে অবস্থান করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা টেলিফোনে জানায়, শনিবার একটি পৃথক বিক্ষোভ মিছিল সেনাবাহিনীর অফিসে পৌঁছে যায়। এটি রাজধানী দক্ষিণপূর্বে মাদানি শহরে অবস্থিত।
গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর থেকে পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। অর্থনীতিতে বশির সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানী ও বিদেশী মুদ্রার সংকটের কারণে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
রুটির দাম তিনগুণ করার সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জনতা প্রথম দেশব্যাপী রাস্তায় নামে। পরে এটি দ্রুত বশির সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
২২ ফেব্রুয়ারি প্রবীণ এই নেতা দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেন