ঢাকা, নভেম্বর ২২, ২০১৮, ৮ অগ্রহায়ন ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ১৬:৫০:৩৮

সাকিব-তামিমকে ছাড়া দল প্রস্তুত : মাশরাফি

স্বাস্থ্য ও বিনোদন | ৫ কার্তিক ১৪২৫ | Saturday, October 20, 2018

ঢাকা : আগামীকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের দুই সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়াই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে হচ্ছে টাইগারদের। সাকিব-তামিম, দুই সেরা খেলোয়াড়ই হাতের ইনজুরিতে ভুগছেন। তবে সাকিব-তামিমকে ছাড়া ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে দল প্রস্তুত বলে জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডের আগে আজ এক সংবাদ সম্মেলন এমন কথাই বলেন ম্যাশ। সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির বক্তব্য তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন : অনেক দিন পর হোম সিরিজ, সাকিব-তামিম বিহীন দলের প্রত্যাশা কি?
মাশরাফি : অবশ্যই, অনেক দিন পর হোমে খেলতে নামছি। অবশ্যই সবাই আত্মবিশ্বাসী। সাকিব-তামিম থাকবে না, এটা আগে থেকেই সবাই জানে। সেভাবেই সবাই প্রস্তুতি নিয়েছে, সেরা পারফমেন্স দেয়ার জন্য যা যা দরকার করা হয়েছে। কাল খেলা, সবাই যেটা চাচ্ছে, সেটা যেন করতে পারে।
প্রশ্ন : সিরিজে চ্যালেঞ্জ কি?
মাশরাফি : চ্যালেঞ্জটা প্রতি ম্যাচে যেটা থাকে সেটাই। সবার প্রত্যাশা, আমরা জিতব এবং জেতার আশাই করছে সবাই। সেটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, অন্য দলের সাথে যেই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে খেলেছি গত এশিয়া কাপে যেভাবে খেলেছি সেটাই থাকবে। আর ওদের প্রায় সব সিনিয়র প্লেয়াররা কাম ব্যাক করেছে। আর ব্জিম্বাবুয়ে দলের সবচেয়ে ভাল রেকর্ড বাংলাদেশেই। সুতরাং আমাদের ১০০ ভাগ দিয়েই খেলতে হবে। হয়তো জিতলে সবাই বলবে, এটাই হওয়ার কথা ছিল। হারলে কিন্ত ভিন্ন কথা হবে, এটাই স্বাভাবিক।
প্রশ্ন : প্রথম ওয়ানডেতে কম্বিনেশনটা কেমন হবে?
মাশরাফি : এশিয়া কাপে যেটা হয়েছে, দলের ওপর দিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা গিয়েছে। এক এক ম্যাচে এক একজন করে অসুস্থ হচ্ছিল। দুজন তো দল থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। এখন আমরা জানি ওই দুজন খেলবে না। রুবেল হাসপাতালে ছিল। ইনজুরির দিক থেকে একটা জায়গা নিয়ে চিন্তা আছে। এছাড়া চেষ্টা থাকবে, সেরা দলটাই গড়া। আর যে কোন সিরিজের প্রথম ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই, কিছু নতুন খেলোয়াড় দলে নেয়া হয়েছে। সামনে বিশ্বকাপকে চিন্তা করে। তাদের দেখে নেয়ার এটাই সুযোগ। সেটাও মাথায় রাখতে হবে। একই সাথে ম্যাচ জেতাটাও খুবই গুরুত্বপূর্র্ণ।
প্রশ্ন : এশিয়া কাপের হাই ইন্টেন্স ক্রিকেটের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ, এমন সিরিজে দলকে ইন্সপায়ার করার ফর্মুলা কী?
মাশরাফি : এশিয়া কাপে ওদের দুই জনকে ছাড়া যেভাবে যেই ধরনের ক্রিকেট খেলে এসেছি, এরপর এই ধরনের সিরিজ খেললে এবং খারাপ হলে অনেক কথা ওঠে। ব্যাক অব দ্য মাইন্ডে কিন্তু এই একটা কথাই চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু আমার মতে, ওই জায়গাটায় কাজ করা প্রয়োজন। জিম্বাবুয়ের কাছে এমন না যে আমরা কখনো হারিনি বা হারতে পারব না, এমন কিছু না। ওদের যেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে, এখানে একজন খেলোয়াড় যদি সেঞ্চুরি করে সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একশ হিসেবেই গণ্য হবে, কেউ যদি পাঁচ উইকেট পায় তাহলে পাঁচ উইকেটই গণ্য করা হবে। এইগুলো যেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলি না কেন, এইগুলো করা কিন্তু কঠিন। খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজেকে বুস্ট আপ করা জরুরী। আর আমার কথা যদি বলেন, আমি বলব আমাদের জন্য এই সিরিজটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের আগে এমন ৪টি সিরিজ আছে খেলার মত, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রস্তত হওয়ার জন্য। আর আমদের জন্যও ভালো হয়েছে। ওরা ওদের সেরা দলটা পাঠিয়েছে।
প্রশ্ন : প্রথম ওয়ানডেতে কেমন উইকেটের প্রত্যাশা!
মাশরাফি : মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করা খুবই কঠিন, আমরা সবাই জানি। মিরপুরের উইকেট বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ শুরু করে। আগে থেকে বলা খুবই কঠিন হবে। তবে প্রত্যাশা তো অবশ্যই করছি, সাধারণত ২৫০-৬০ রান হলে ম্যাচ ভাল হয়, আগে ব্যাট করা দলের জেতার সুযোগ বেশি থাকে। শুরুতেই যে স্লো-বা টার্ন হবে, এমন আশা অবশ্যই করছি না। ভাল উইকেটে খেলতে চেয়েছি, এখন ভাল উইকেট হলেই হয়। কিন্তু মিরপুরের উইকেট তো, আগে থেকে অনুমান করা কঠিন।
প্রশ্ন : প্রস্তুতি ম্যাচে পেসারদের সাফল্য, নাকি স্পিন দিয়ে জিম্বাবুয়েকে ঘায়েল করার পরিকল্পনা হবে!
মাশরাফি : বাংলাদেশ দলকে শেষ তিন চার বছর কাছে থেকে দেখেছেন। আমরা ৯৯ শতাংশ সময় তিন জন ফাস্ট বোলারকে ব্যাক আপ করেছি, যে কোন অবস্থায় এবং যে কোন উইকেটে। আমরা পেস বোলিংকে সবসময় প্রাধান্য দিয়েছি। আর আমাদের পেস বোলিং বিভাগ ভাল করছেও। খারাপও করেছে, কিন্তু ভালোর সংখ্যাটা বেশি এবং ম্যাচ উইনিং পারফর্মেন্স অনেক আছে। আমরা অবশ্যই ওই জায়গায়াতেই আছি। আমরা যতদূর সম্ভব, এটা ব্যাক আপ করেই যাব। একই সাথে উপমহাদেশ ও মিরপুরের উইকেটে স্পিনের বড় ভূমিকা থাকে। আমরা স্পিন দিয়ে তাদেরকে এর আগে অনেক সময় অল আউট করেছি। এটা অবশ্যই আমাদের মাথায় আছে এবং থাকবে। একই সাথে আমরা পেস বোলারদের ফ্ল্যাট উইকেট, সিমিং উইকেট, সব জায়গায় আমরা ব্যাক আপ দিয়েছি। সেটা দিয়ে যেতে চাই।
প্রশ্ন : বিশ্বকাপ সামনে রেখে আপনার নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা আছে। তার বাস্তবায়ন কি এই সিরিজ থেকেই?
মাশরাফি : আল্লাহ যদি সবাইকে বাঁচিয়ে রাখে কিছু খেলোয়াড় আছে আপনার চিন্তা করার সুযোগ নেই সেখানে। নাম বললে হয়তো বা সাকিব, মুশফিক, তামিম, রিয়াদের ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের চিন্তা করার সুযোগ কম। একই সাথে মুস্তাফিজ আছে লিটন আছে, এরাও ভাল করছে। তবে একটি কথা আগেও বলেছি ব্যাকআপ খেলোয়াড় আমাদের অনেক কম। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফর্ম করার মতো ব্যাকআপ। এখন আস্তে আস্তে ঘরোয়া ক্রিকেটে শক্তিশালী হচ্ছে বা ক্রিকেটাররাও নিজে থেকে খেলতে চাচ্ছে। এরকম খেলতে থাকলে সুযোগ তৈরী হবে এবং ব্যাকআপ খেলোয়াড় তাড়াতাড়ি চলে আসবে। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি কিছু পজিশন আছে সেখানে বিশ্বকাপের কথা যদি চিন্তা করি সাইফউদ্দিন অবশ্যই সেটা। ফজলে রাব্বি অবশ্যই সেটা। কারণ সাকিবের যদি আল্লাহ না করুক সমস্যা হয়ে যায়, এখনও সমস্যায় আছে সে। তো কাউকে না কাউকে বাঁ-হাতে স্পিন ও ব্যাটিং আমাদের চিন্তা করতে হতে পারে। এই ছোট ছোট জায়গাগুলো। অবশ্য এত কম সময়ে সেটাও না। কিন্তু সুযোগগুলো আমাদের দেখতে হবে, নিতে হবে। সেই সব জায়গা চিন্তা করেই কিন্তু এরা ১৫ সদস্যে এসেছে। একই সময়ে এটাও ঠিক আন্তার্জাতিক ম্যাচগুলো হারা যাবে না। তাই আমাদের আরো হিসেবি হতে হবে এবং একাদশ সেভাবেই সেট করতে হবে। আস্তে আস্তে একজন-দু’জন করে হয়তো বা আমাদের দেখতে হবে।
প্রশ্ন : দলে কার কার ইনজুরি?
মাশরাফি : আমার ক্ষেত্রে আমি একটা ফর্মেট খেলি, তাই আমাকে ওভাবেই মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হয়। কিছু সমস্যা হলেও খেলি। কারণ আমি তো সব ফর্মেট খেলি না। আমাকে পরের সিরিজের চিন্তা করলে সবসময়ই এই সিরিজটা খেলা গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে ভাবতে হয়। অন্যদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, তারা সব ফর্মেট খেলে। কেউ যদি টিমে না থাকে সে চারদিনও খেলতে পারবে। সেটা আমার ক্ষেত্রে হয় না। আমাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও অনুশীলনের ওপর নির্ভর করতে হয়। আল্লাহর রহমতে ভালোর দিকে আছি। মুশফিকও ভাল ফিল করছে। রুবেলরটা যেটা হচ্ছে সে গতকাল হাসপাতাল থেকে এসেছে। গায়ে জ্বর ছিলো, অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছে। ওরটা ফিজিও ক্লোজ লুক করছে, শেষ পর্যন্ত কি অবস্থা হয়। এছাড়া টিমের সবাই ভাল অবস্থায় আছে। আর যে দুজন নেই, তারা তো অনেক আগে থেকেই নেই।
প্রশ্ন : মিরপুরের আনপ্রেডিকটেবল উইকেট…
মাশরাফি : প্রথমত মিরপুরের উইকেট যেটা, আমি ধন্যবাদ দিব আমাদের যারা খেলোয়াড় আছে। এটা কিন্তু আমরাও বিশ্বাস করি মিরপুরের উইকেট আনপ্রেডিকটেবল। কি জন্য? হঠাত করেই আচরণ বদলে ফেলে। আপনারাও দেখেছেন হঠাৎ করে টার্ন বা বল নিচু হয়ে আসছে। তখন কিন্তু যারা ব্যাটিং করছে তাদেরও মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হচ্ছে। ব্ইারে যারা থাকে তাদেরও মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হয়। আনপ্রেডিকেটেবল হলেও আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কারণ বেশিরভাগ সিনিয়র খেলোয়াড়রাই ১০ বছর যাবত এই উইকেটে খেলছে। তো এই জায়গায় অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও যারা খেলছে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আপনি যদি দেখেন একক্ষেত্রে সুবিধাও থাকে। আচরণ যখন বদলাতে থাকে তখন প্রতিপক্ষের জন্য একটু কঠিন হয়। আমরা যখন ২০১৫ থেকে জেতা শুরু করেছি তখন থেকে আমার বিশ্বাস এই মাঠে আমাদের রেকর্ড ভাল। আনলেস অর মেন্টালিল কিছুটা দুর্বলতার কারনে আমরা হেরে গিয়েছি। এশিয়া কাপ ফাইনাল সেটাও বলতে পারেন। সেটা ছাড়া আমার মনে হয় এই উইকেটে আমার অ্যাডজাস্টমেন্ট একেবারে খারাপ হবে না। চট্টগ্রামে যেটা হয় নরমালি আমরা জানি ব্যাটিং উইকেট হবে, ভাল উইকেট হয়। আপনি যদি স্লো না তৈরী করেন, টার্নিং উইকেট না তৈরী করেন ওটা ব্যাটিং সহায়ক হবে। এই উইকেটটা একেবারে ওই রকম না। হাফের পরে অন্যরকম আচরণ শুরু করে। এজন্য বলছিলাম আনপ্রেডিকটেবল। কিন্তু আমি নিশ্চিত আমাদের ছেলেরা এতদিন খেলার পরে এমন কোন অজুহাত না দেয়াই উচিত। তবে একটা মাইন্ডসেট আপ থাকা যেটা আগেও বললাম ২৫০-২৬০ করলে প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন হবে।

image_print