ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, স্থানীয় সময়: ০৮:৪৮:১৪

রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে আসছে ইউরোপীয় জাহাজ ‘ফিনিক্স’

আইন ও মানবাধিকার | ২২ ভাদ্র ১৪২৪ | Wednesday, September 6, 2017

 

মোয়াসের এই জাহাজে করেই উদ্ধার করা হয় সাগরে ভাসমান অভিবাসীদের। ছবি : এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশ থেকে পালিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান প্রায় ৪০ হাজার অভিবাসীর জীবন রক্ষাকারী সংগঠন ‘দ্য মাইগ্রেন্ট অফশোর এইড স্টেশন—মোয়াস’ এবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর হামলার মুখে বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাঁচাতে এগিয়ে আসছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টা থেকে এবার মোয়াসের জলযান ‘ফিনিক্স’ মিয়ানমারের জলসীমার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সেটি বঙ্গোপসাগরে নোঙর করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অভিবাসীদের রক্ষায় কাজ করছে সংস্থাটি। এবার যখন জাতিসংঘ ঘোষণা দেয় যে, প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে, তখনই তাদের রক্ষায় উদ্যোগী হয় মোয়াস।

মোয়াসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রেগিনা ক্যাটরামবোন বলেন, নিজের দেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালাতে যাওয়া মানুষের প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন, অপহরণ ও অন্যায়ের বর্ণনা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। এসব মানুষ সুরক্ষা দাবি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অথচ তাদের দিকে কেউ মনোযোগ দেয় না। তাই তাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করাই মোনাসের প্রধান মনোযোগের বিষয়।

এবার মোনাসের জাহাজ ফিনিক্স হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে। নতুন এই মিশনে রোহিঙ্গা নাগরিকদের মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে এ অঞ্চলে স্বচ্ছতা, পরামর্শ ও জবাবদিহির একটি প্ল্যাটফর্মও তৈরি করা হবে।

বিবিসির ওই প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের দেশহীন মুসলিম সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। বলা হয়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের দাবি, দেশটির সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ রাখাইন প্রদেশে তাঁদের বাড়িঘর ও গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়ত মানুষ বলে উল্লেখ করেছে। এ ছাড়া গত ২৭ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধের অনুরোধ করেন পোপ ফ্রান্সিস।