ঢাকা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ১৪:১১:৩৭

মেধাবী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ করছে বাংলা একাডেমি

স্বাস্থ্য ও বিনোদন | ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৫ | Tuesday, December 4, 2018

ঢাকা : বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালকবৃন্দ একাডেমির কাজকর্মে আরো মান উন্নয়ন এবং সৃষ্টিশীলতায় মনোযোগ দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, জাতির জীবনে বাংলা একাডেমি একটাই। মেধাবী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান।
তারা বলেন, এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল ধরে জাতির ভাষা, সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, রাজনীতি, বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে কাজ করে তিলতিলে গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের আকংখার জাতি গড়ে উঠছে।
বাংলা একাডেমির ৬৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালকবৃন্দ এই বক্তব্য রাখেন। গতরাতে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিষারদ মিলানায়তনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে সাবেক মহাপরিচালকদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক মহাপরিচালক কবি ও সাবেক সচিব মনজুরে মওলা বলেন, দীর্ঘকাল ধরে একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসীম পরিশ্রমের ফলে তিলতিলে গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠান। আমি যাদের সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি, তারা সবাই ছিলেন মেধাবী, পরিশ্রমী এবং জাতির প্রতি নিবেদিত। তারা শুধু একাডেমিকে গড়ে তোলেননি, নিজেরাও আজ বিভিন্নক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। এই কথা ভেবে আমার ভীষন ভাল লাগছে।
সাবেক মহাপরিচালক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৪৩ সালে ছাত্রাবস্থা থেকে একাডেমি এলাকার বাসিন্দা আমি। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ২১ দফায় বাংলাভাষার উন্নয়নে একাটি একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল। এই দাবির প্রেক্ষিতেই যুক্তফ্রন্ট সরকার এ একাডেমি গড়ে তোলেছেন। আমি মহাপরিচালক থাকাকালে নজরুল কক্ষ করেছিলাম। এই কক্ষটি এখন না থাকলে পুনরায় করা যায় কি না তিনি এই আহবান জানান।
সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক হারুন-অর- রশিদ বলেন, একাডেমি অনেক দূর এগিয়েছে। উন্নতি হয়েছে। কিন্তু মহাপরিচালক পদটি শাসনতান্ত্রিকভাবে মর্যাদা দেয়া দরকার। মহাপরিচালক নিযুক্ত হলে তিনি একজন বিচারকের কাছে শপথ নিয়ে যোগদান করবেন। এই মর্যাদা বাস্তবায়ন করা হোক। আমি জীবিত অবস্থায় তা দেখে যেতে চাই।
সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন তার দায়িত্বপালনকালে বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে চারবছর দায়িত্ব পালন করে অনেক ব্যাতিক্রমধর্মী অভিজ্ঞতা হয়েছে। যা জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই পাইনি। মেধাবী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান।
সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মূসা বলেন , মনুজুর মওলা সাহেব কর্মরত অবস্থায় একাডেমির নতুন জীবন দিয়েছেন। অভিধান প্রনণয়ন, প্রশাসকি উন্নয়ন এবং নতুন ভবন নির্মাণের অনেক কাজই তিনি শুরুতে করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানে শক্তিশালী কর্মীবাহিনী রয়েছেন। যারা জাতিকে মেধাবী হিসেব প্রতিষ্ঠার কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে এ ছাড়াও সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক (প্রশাসন ) ডা. মুজাহিদুল ইসলাম।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী ছিল নানা অনুষ্ঠান। সকালে একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সমাধিতে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
বিকেল অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বক্তৃতা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সচিব অপরেশ কুমার ব্যানার্জী। ‘বৈশ্বিক পটভূমিকায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও জাতিরাষ্ট্র’ শীর্ষক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বক্তৃতা প্রদান করেন প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক। সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক সুব্রত বড়–য়া।
পরে ‘সুরভিত সন্ধ্যায়’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সংগীত এবং নৃত্য। এতে অংশ নেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।