ঢাকা, মে ২৭, ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ০৩:২১:৪৭

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

পলাশবাড়ীর দুলাল ঠাকুরের বিরুদ্ধে দেব প্রতিমার প্রতি অসন্মানের অভিযোগ:বিচারের দাবীতে ফেইসবুকে তুলপার। শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডিলিট প্রদান মাদকের গডফাদাররা আ’লীগের লোক হওয়ায় অধরা : বিএনপি আজ সম্মানসূচক ডি.লিট পাচ্ছেন শেখ হাসিনা নজরুলের আদর্শে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ভারতীয় বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায় : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দৃঢ় ও অব্যাহত থাকবে : মমতা বাংলাদেশ ভবন উভয় দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতীক : মোদি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী পালিত

মিয়ানমার সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সত্যের ব্যাপারে আপোস করেননি পোপ

দেশের খবর | ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৪ | Sunday, December 3, 2017

ঢাকা : পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, তাঁর বার্মা সফরকালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিঙ অং হ্লাইং সহ সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সত্যের সঙ্গে আপোস করেননি।
পোপ তাঁর ঐতিহাসিক মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর সমাপ্ত করে ঢাকা ত্যাগ করার পরে পোপের প্লেনে সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের পোপ বলেন, ‘আমি সত্যের সঙ্গে আপোস করিনি… আমি বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, পুরাতন পদ্ধতি বর্তমানে কার্যকর নয় এবং তিনি এ বার্তা গ্রহণ করেছেন।’
পোপের সফরসঙ্গী সিএনএন-এর প্রতিনিধি বলেন, সিনিয়র জেনারেলের বিশেষ অনুরোধে জেনারেলের সঙ্গে বৈঠককে ‘ব্যক্তিগত বৈঠক’ হিসেবে উল্লেখ করে ফ্রান্সিস এই বৈঠকে ভালো আলোচনা হয়েছে বলে বর্ণনা করেন।
প্লেনে পোপের সফরসঙ্গী রয়টারের এক সাংবাদিক বলেন, পোপ জোরালো আভাস দিয়েছেন যে, তিনি বার্মিজ জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠকে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যে শব্দটি ওই জেনারেলরা অপছন্দ করেন।
সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে পোপ বলেন, ‘বার্তাটি পৌঁছাতে আমি এই শব্দটি ব্যবহার করেছি এবং যখন বুঝলাম আমার বার্তা তাদের কাছে পৌঁছেছে তখন আমি যা বলতে চাই সাহসের সঙ্গে সবকিছুই বলেছি।’
পোপের সফরসঙ্গী সাংবাদিকরা বলেন, ‘এক ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি দিয়ে এক সাংবাদিককে ৮০ বছর বয়সী ফ্রান্সিস একটি ল্যাটিন ফ্রেজ ‘ইন্টেলিজেন্টি পাউকা’ বলে তার জবাব শেষ করেন। এই প্রবচনের অর্থ হলো- বুজদারের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।’
সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এড়ানোর কৌশলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তিনি দেশটির নেতাদের সঙ্গে সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি নেননি এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে, তিনি সংলাপ প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিতে না ফেলেই দেশটির বেসামরিক ও সামরিক উভয় নেতৃবৃন্দের কাছেই তার বার্তা পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছেন।
পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘আমি যদি শব্দটি ব্যবহার করতাম, তাহলে আমার জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যেতো… (কিন্তু) আমি এ ব্যাপারে যা ভেবেছি তা ইতোমধ্যে ভালো করেই জানা হয়ে গেছে।’ পোপ উল্লেখ করেন যে, তিনি বিভিন্ন সময় ভ্যাটিকান থেকে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করেছেন।
পোপ বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বার্তাটি ঠিক মতো পৌঁছে দেয়া, একবারে একটি বিষয়ে কথা বলা এবং অপর পক্ষের জবাব শোনা।’
‘আমি জানি যে যদি আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় আমি ওই শব্দটি ব্যবহার করতাম, তারা হয়তো আমাদের মুখের ওপরই আলোচনার দরজা বন্ধ করে দিত। কিন্তু প্রকাশ্য বক্তৃতায় আমি পরিস্থিতি তুলে ধরেছি, অধিকারের বিষয়গুলো সামনে এনেছি; নাগরিকত্বের অধিকারের কথা বলেছি, বলেছি, কাউকেই বাদ দেওয়া উচিৎ নয়। এটা করতে হয়েছে, যাতে একান্ত বৈঠকে আমি আরও কিছু বলার সুযোগ পাই।’
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার প্রধানত মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে নিজস্ব পরিচয়ধারী জাতিগোষ্ঠি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বরং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে ইঙ্গিত মেলে যে, মিয়ানমারের রোমান ক্যাথলিক চার্চ সফরের আগেভাগেই পোপকে তার বক্তৃতায় রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, পোপের মুখ থেকে ওই শব্দটি এলে মিয়ানমারের খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।