ঢাকা, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭, ৩ পৌষ ১৪২৪, স্থানীয় সময়: ১৫:৫৫:১৩

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

এমপি হ্যাপি বড়ালের মেয়ে অদিতি বড়ালকে ছুরিকাঘাত। তুরাগ নদ দখল করে থাকা ৩০ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের নির্দেশ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই নিরীহ জজ মিয়াকে দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়ানো হয় : রাষ্ট্রপক্ষ ইকুইভ্যালেন্সি সার্টিফিকেটের আবেদন ফরম ও নিয়মাবলী বিচারকদের আচরণ বিধি প্রকাশ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টায় শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার ৬৭ শতাংশ সেবাগ্রহীতাকে ঘুষ দিতে হয় : ইফতেখারুজ্জামান ‘আপনার সময় ঘনিয়ে এসেছে’, অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকি আদালতে হাজিরা দিয়ে দুই মামলায় জামিন পেলেন খালেদা জিয়া কোচিংবাজ শিক্ষকরা দুদকের জালে

বিডিআর বিদ্রোহ মামলা রায় পড়া শুরু : পূর্ণাঙ্গ রায় দিতে সময় লাগতে পারে

আইন ও মানবাধিকার | ১২ অগ্রহায়ন ১৪২৪ | Sunday, November 26, 2017

ঢাকা : রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংগঠিত বিদ্রোহে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় হাইকোর্টে রায় পড়া শুরু হয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় দিতে আরো সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আজ সকাল ১১টার দিকে মামলায় রায় পড়া শুরু হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এটর্নি জেনারেল আজ দুপুরে একথা জানান। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় নিম্ন আদালত ১৫২ জনের মৃত্যুদন্ড ও ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়ে রায় দেয়।
এটর্নি জেনারেল বলেন, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যা যেমন একটি জঘন্য ঘটনা ছিলো তেমনি এ মামলার রায়ও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ে বিরুদ্ধে দন্ডপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে ১১৯টি আপিল আবেদন করা হয়। আর ৬৯ জন আসামির খালাস দেয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। হাইকোর্টে মামলাটি এক বছরের বেশি শুনানি হয়েছে। আজকে রায় দেয়া শুরু হয়েছে।
এটর্নি জেনারেল বলেন, সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ নির্দোষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। তৎকালীন বিডিআর বাহিনীর কিছু সদস্যের উচ্ছৃঙ্খলতা, হিংস্রতা ও অমানবিকতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যা অকল্পনীয়। তিনি রায়ে এ হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে মামলাটি আজ সকাল ১১টার দিকে পড়া শুরু হয়েছে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।
বহুল আলোচিত ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি সাসের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তর সংগঠিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ১৫২ আসামির মৃত্যুদন্ডের অনুমোদন (ডেথ রফারেন্স) ও সাজা বাতিলে আসামিপক্ষের আপিলের এ রায় পড়া শুরু হয়েছে। একই আদালতে ডেথ রফারেন্স ও সাজা বাতিলে আসামিপক্ষের আপিলের রায় ছাড়াও দন্ডিতদের সাজা বৃদ্ধি এবং আসামীদের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলেরও রায় দেয়া হবে। আসামি সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ওই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এই হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় দেয়। এ মামলায় আসামি ছিলেন ৮৪৬ জন। সাজা হয় ৫৬৮ জনের। তাদের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদন্ড, ১৬০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড হয়েছিল। খালাস পেয়েছিলেন ২৭৮ জন।
রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংগঠিত হত্যাকান্ডে আনা মামলায় দায়ের করা সকল ডেথ রেফারেন্স ও ফৌজদারি আপিলের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন গত ১৩ এপ্রিল শেষ হয়। এর আগে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।