ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ০৯:৪৮:১৩

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন : হাসিনা সরকারের ওপর আস্থা রাখছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র খুলনায় মন্দির থেকে প্রতিমার স্বর্ণালংকার চুরি জাতিসংঘ অধিবেশনকালে দুটি পুরস্কার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসবভনে বন্দী ছিলাম, মিডিয়াকে বলা হয়েছে আমি অসুস্থ: সিনহা বাংলাদেশের সামনে ২৫৬ রানের চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ অবস্থানের কোন সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত নারীর সুরক্ষায় প্রস্তাবিত আইনটি পাস হওয়া জরুরি : ডেপুটি স্পিকার পবিত্র আশুরা আগামীকাল জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদিতে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের উদ্দেশ্যে কাল ঢাকা ত্যাগ

বর্তমানে বাংলাদেশ সফল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে : প্রধানমন্ত্রী

দেশের খবর, প্রধান সংবাদ | ৬ আষাঢ় ১৪২৫ | Wednesday, June 20, 2018

সংসদ ভবন, ২০ জুন, ২০১৮ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ একটি সফল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আজ তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সেলিনা জাহান লিটার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় থেকে উত্তরণের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রেখে গেছে। পূর্বের ধারাবাহিকতায় আমাদের সরকারের বর্তমান আমলেও উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য গৌরবের যে, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যা স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে জাতিসংঘের নির্ধারিত তিনটি মানদন্ড পূরণ করেছে। অপরদিকে, বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন মানদন্ডে ২০১৫ সালেই সরকার নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণ করেছি। এ উত্তরণের ফলে সরকারের চাহিদা ও সম্মতির প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত হওয়ার পথ আরও সুগম হয়েছে।’
তিনি বলেন, এতে করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার আরও জোরদার করার মাধ্যমে অধিক হারে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। সার্বিক এ সুবিধাদির অংশিদার হবে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। পাশাপাশি প্রবাসে অবস্থানরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী যারা এতদিন নি¤œ আয়ের দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতো, তারা এখন মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ, সম্মানজনক ও গৌরবের বিষয়।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বহির্বিশ্বে যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্যণীয় হয়েছে তা এই অর্জনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে স্বীয় অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরে সরকার আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় থেকে উত্তরণ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতিফলন। কারিগরি জ্ঞান, উৎপাদনশীলতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য খাতে বাংলাদেশ যে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে এটি তারই স্বীকৃতি। এর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে বিদেশী বিনিয়োগকারীগণ আরও আগ্রহী হবে।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারের সাথে তাল-মিলিয়ে বাংলাদেশের শিল্প-উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা আরও উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হবে এবং আন্তর্জাতিক আস্থার ফলশ্রুতিতে নতুন নতুন প্রযুক্তির আগমন ঘটবে। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানির পরিমাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। রপ্তানি পণ্যের প্রসারে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের বিশ্ববাজারের সাথে যুক্ত হওয়ার অধিকতর সুযোগ তৈরি হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অধিক সংখ্যক বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার ফলে বাংলাদেশী শ্রমিকদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা সম্পর্কে আস্থা বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শামিল হতে প্রবাসীরা আরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হবে। সার্বিকভাবে তারা সে সকল দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে অবদান রাখতে সক্ষম হবে যা বাংলাদেশের সুনাম বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সরকার তরুণ প্রজন্মের মেধা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ অর্জন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এ অর্জন তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের লক্ষ্যগুলো অর্জনে সহায়ক হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ যাতে তার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারে সেজন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উত্তরণ পরবর্তী উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে শুধুমাত্র তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নতুন নতুন ও বিভিন্ন অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় সরকার দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে তৎপর রয়েছে। শুল্ক ও অশুল্ক বাধাসমূহ দূরীকরণে সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার এসডিজি’র অভীষ্টসমূহের সাথে জাতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সরকার আমাদের লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষিতে অগ্রগতি, শিক্ষা সম্প্রসার বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা এলডিসি থেকে উত্তরণ ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা শোনার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত ৭টি দেশের সংগঠন জি-৭-এর সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন যা কানাডার কুইবেকে অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে আমি আমন্ত্রিত হই এবং আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করি।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে জাতির জনকের সুখী সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এখানেই থেমে থাকতে চায় না। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন তখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে যখন ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং ২০৪১ সালে মধ্যে বাংলাদেশ একটি উচ্চ আয়ের উন্নত দেশে পরিণত হবে। এ লক্ষ্যে দেশের আপামর জনসধারণকে নিয়ে সরকার একযোগে কাজ করে যাবে ।