ঢাকা, মে ২৭, ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ০৩:১৬:০৭

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

রাজধানীর জেনেভা ক্যাম্পে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক শতাধিক ৭ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৯ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট’ সমাধানে আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ ব্যবহার প্রয়োজন : মাসুদ বিন মোমেন লিগ্যাল এইড অফিসে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ৩৩ তম রায়ের অপেক্ষা খালেদা জিয়ার জামিন বহাল, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিস্পত্তির নির্দেশ গণপরিবহনে নারী নির্যাতন বন্ধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ শিশুশ্রম নিরসনে নানা উদ্যোগ : মালিকদের বিরুদ্ধে ১৩৪টি মামলা দায়ের ঢাবিতে আম পাড়তে গিয়ে ছাত্রের মৃত্যু যৌতুক দাবি করলে পাঁচ বছরের জেল, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ফাঁসিও দিতে পারেন সমস্যা নেই, হাইকোর্টে জামিন হবে

আইন ও মানবাধিকার, দেশের খবর | ৫ মাঘ ১৪২৪ | Thursday, January 18, 2018

‘মাইলর্ড আপনার এত তাড়াহুড়া কীসের? আপনি এ মামলা নিয়ে এত বেশি তাড়াহুড়া করছেন কেন? আপনি এ মামলায় আমার আসামিদের জেলে রেখেছেন। তাড়াহুড়াতো আমার করার কথা। হাইকোর্টে গেলে এ মামলা জামিন হয়ে যাবে। আপনি যা খুশি দণ্ড দেন। যাবজ্জীবন,ফাঁসি দিবেন। কোনো সমস্যা নেই। হাইকোর্টে আমি মৃত্যুদণ্ডের শুনানি করব। আপনি যা খুশি রায় দিতে পারেন। কারণ আপনার হাতে ক্ষমতা আছে।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে শুনানির একপর্যায়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামীদের আইনজীবী আহসান উল্লাহ এসব কথা বলেন।

বেলা সাড়ে ১১টা শুনানিকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামি শরাফ উদ্দিন ও কাজী সলিমুল হকের আইনজীবী আহসান উল্লাহকে বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আপনি মামলার যুক্তিতর্ক শুরু না করে সবকিছু পড়া শুরু করলেন কেন?’

জবাবে আইনজীবী আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমি সাক্ষীদের সাক্ষ্য জেরাসহ সব কিছু না পড়লে তো মাই লর্ড আপনাকে বাসায় গিয়ে পড়তে হবে।’

জবাবে বিচারক বলেন, ‘আপনি মামলার নির্দিষ্ট করে পড়েন।’

জবাবে আইনজীবী আহসান উল্লাহ বলেন, ‘যুক্তিতের্কর জন্য আমাকে সবই পড়তে হবে। আপনি যদি বলেন তাহলে আমি শুনানি বন্ধ করে দেব।’

জবাবে আদালত বলেন, ‘আপনি নিজে এ মামলা শুনানি করার জন্য কি ওকালত নামা দিয়েছেন? শুনানির আগে ওকালতনামা দিতে হয়।’

তখন আইনজীবী বলেন, ‘শুনানির জন্য ওকালতনামা দিতে হবে না’। হাইকোটে আমি ডেথরেফারেন্স মামলা পরিচালনা করি, প্রতি মাসে কমপক্ষে দুটি মৃতুদণ্ড মামলার শুনানি করে থাকি। ওখানে দরকার হয় না। এখানে প্রয়োজন হবে?’

জবাবে বিচারক বলেন, ‘আমাদের বিচারিক আদালতে ওকালতনামার প্রয়োজন হয়।’

জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘আমি অনুমতি নিয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছি এবং আপনি যদি মনে করেন তাহলে ওকালতনামা দিব।’

জবাবে বিচারক বলেন, ‘আপনি যুক্তিতর্ক শুরু করেন।’

আইনজীবী বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত জাস্টিস হ্যারিড অ্যান্ড জাস্টিস ব্যারিড অর্থাৎ দ্রুত বিচার মানে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হওয়া। মাই লর্ড আপনার এত তাড়াহুড়া কিসের? আপনি এ মামলা নিয়ে এতবেশি তাড়াহুড়া করছেন কেন?’

জবাবে বিচারক বলেন, ‘আমি আপনাকে এ মামলার মূল বিষয়গুলো পড়তে বলছি।’

জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘আপনি এ মামলায় আমার আসামিদের জেলে রেখেছেন। হাইকোর্টে গেলে এ মামলা জামিন হয়ে যাবে। আপনি যা খুশি দণ্ড দেন। যাবজ্জীবন, ফাঁসি দিবেন। কোনো সমস্যা নেই। হাইকোর্টে আমি মৃত্যুদণ্ডের শুনানি করব। আপনি যা খুশি রায় দিতে পারেন। কারণ আপনার হাতে ক্ষমতা আছে। কিন্তু আমাকে শুনানি করতে দিতে হবে।’

জবাবে বিচারক বলেন, ‘ঠিক আছে আপনি শুনানি করেন। তবে আপনি মূল অংশে আসেন।’

আইনজীবী আহসান উল্লাহ বলেছেন, ‘আমার ছোট আসামি বলে কি সময় কম হবে নাকি? আপনি একজনকে দশদিন শুনেছেন। আমার দুইজনের জন্য আমি বিশ দিন শুনানি করব।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘আপনি কোন আসামির পক্ষে শুনানি করবেন তা নির্ধারণ করতে হবে। এভাবে পুরো বিষয়টি আপনি শুনানি করতে পারেন না।’

আইনজীবী বলেন, ‘আদালতে পড়া যাবে না এটার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কোন আইনে আছে আমাকে দেখাতে পারলে আমি ওকালতি ছেড়ে দেব। সাক্ষ্য আইনের এ রকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’

এ সময় আদালত বলেন,’আপনি কারপক্ষে শুনানি করতে চান?’

আইনজীবী বলেন, ‘আমি দুই আসামির পক্ষে শুনানি করতে চাই।’

জবাবে আদালত বলেন, ‘আপনি নির্দিষ্ট জায়গায় পড়েন।’

জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘আমার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। আমি মামলার এফআইর ,চার্জশিট, জেরা, আসামিদের আত্মপক্ষের বক্তব্য (৩৪২)সহ ৩২ জন সাক্ষীর সব সাক্ষ্য পড়ব।’

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মোশাররফ হোসেন কাজল আহসান উল্লাহকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি এত দিন কোথায় ছিলেন? মূল জিনিস পড়েন।’

জবাবে আইনজীবী আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমার সাথে বিজ্ঞ আদালতের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আপনি এখানে কথা বলার কে?’

এ সময় আহসান উল্লাহ খুব উচ্চস্বরে বলেন,‘মাইলর্ড আদালত কি আপনি চালান? নাকি পিপি (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী)চালায়?’

এ সময় বিচারক কোনো কথা বলেননি। তবে পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল চুপ হয়ে যান। পরে বিচারক পিপিকে কথা না বলে বসে যেতে বলেন।

এরপর আইনজীবী আহসান উল্লাহ সাক্ষীদের সাক্ষ্য পড়া শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ দুপুর ১২টার সময় বেগম খালেদা জিয়া আদালতে এসে উপস্থিত হন।পরে এ আইনজীবী বিকাল ৩টা পর্যন্ত মাঝে আধঘণ্টা বিরতি দিয়ে শুনানি করেন। পরে আদালত আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।