ঢাকা, নভেম্বর ১৯, ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ২১:৪৭:১৬

প্রথম ম্যাচেই নিজেদের প্রমাণ করতে চায় স্বাগতিক রাশিয়া

প্রধান সংবাদ, স্বাস্থ্য ও বিনোদন | ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | Wednesday, June 13, 2018

ঢাকা, ১৩ জুন, ২০১৮ (বাসস) : বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাকর টুর্নামেন্ট- বিশ্বকাপ ফুটবল। স্বাগতিক হিসেবে এবার অন্য সব ফেবারিটদের ভিড়ে রাশিয়ার ওপরও দৃষ্টি থাকবে ফুটবল সংশ্লিষ্টদের। আর সে কারণেই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে অন্তত নিজেদের সেরাটা দিয়ে প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায় করতে চায় রাশিয়া। টুর্নামেন্টের নীচু র‌্যাঙ্কিংয়ের এই দুই দলের লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনোযোগ থাকবে স্বাগতিকদের পারফরমেন্সের ওপর।
রাশিয়ার ঐতিহাসিক লুজনিকি স্টেডিয়ামে কাল থেকে পর্দা উঠছে ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবলের। ৮০ হাজার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিশাল এই স্টেডিয়ামে স্তানিসলাভ চেরচেসোভের দল বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭০তম অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে। গ্রুপ-এ’র প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের তুলনায় এই অবস্থান তিন ধাপ নিচে। গত আট মাস যাবত কোন ম্যাচে জয় না পাওয়া রাশিয়ার জন্য বিশ্বকাপের শুরুটা তাই অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং। গ্রুপের অপর দুটি দল হচ্ছে উরুগুয়ে ও মিশর।
গত সপ্তাহে মস্কোতে তুরষ্কের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ শেষ করেছে রুশ বাহিনী। এই নিয়ে জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক চেরচেসোভের অধীনে টানা সাত ম্যাচ জয়বিহীন থাকলো রাশিয়া। এর মধ্যে চারটিতে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ রয়েছে। এই প্রথমবারের মত রাশিয়ান কিংবা সোভিয়েত হিসেবে রাশিয়া জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পেলেন চেরচেসভ।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ এই আসরের প্রস্তুতির জন্য রাশিয়া ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি ভøাদিমির পুতিন নিজেও রাশিয়ার সাফল্যের জন্য সকলকে একত্রিত হয়ে এগিয়ে যাবার অনুরোধ জানিয়েছেন। পুতিন বলেন, ‘জাতীয় দলের কথা বলতে গেলে একটি কথা স্বীকার করতেই হবে, দূর্ভাগ্যবশতঃ সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দল তেমন কোন ভাল ফল অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু আমরা অতি মাত্রায় আশাবাদী। রাশিয়ার সকল ফুটবল সমর্থক, ফুটবল প্রেমী আশা করছে স্বাগতিক হিসেবে রাশিয়া তার মান রাখবে। মাথা উঁচু করে শেষ পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবে।’
গত প্রায় এক দশকেরও বেশী সময় ধরে রাশিয়ার এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা ইগর আকিনফিভ আশা করেন তার দল যেকোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করতে প্রস্তুত। গত মাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ১-০ গোলে পরাজিত হবার পরে আকিনফিভ বলেছিলেন, রাশিয়া অবশ্যই এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু তা না হলে বিশ্বকাপে ভাল কিছু করা অসম্ভব।
সোভিয়েত কিংবদন্তী লেভ ইয়াসিন ও রিনাত ডাসাইয়েভের থেকে ক্লাব ও জাতীয় উভয় পর্যায়ে বেশী ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে রাশিয়ান অধিনায়ক আকিনফিভের। পুরো দলই ৩২ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের দিকে তাকিয়ে আছে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার পরে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে যেতে পারেনি রাশিয়া। কিন্তু এবার স্বাগতিক হিসেবে অন্তত সেই বাঁধাটা দূর করতে চায় চেরচেসভ শিষ্যরা। ২০১০ সালে একমাত্র স্বাগতিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ইতিহাসে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল।
তবে রাশিয়ার সাফল্যের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে দলের খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ইনজুরি। জেনিট পিটার্সবার্গের স্ট্রাইকার আলেক্সান্দার কোকোরিন মার্চে হাঁটুর ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন। ডিফেন্ডার গিওর্গি ডিজিকিয়া ও ভিক্টর ভাসিনও ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিতে পারেননি। ক্রাসোনডার ফরোয়ার্ড ফিওডোর সমোলোভ ও আরটেম দিজিউবার উপরই আক্রমণভাগের দায়িত্ব পড়েছে। অন্যদিকে প্রায় দুই বছরের বেশী সময় পরে পুনরায় জাতীয় দলে ফিরেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক উইঙ্গার ডেনিস চেরিসেভ।
এদিকে ২০০৬ সালের পরে আবারো বিশ্বকাপের আসরে ফিরেছে সৌদি আরব। শীর্ষ পর্যায়ে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে স্পেনের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার জন্য দেশটির ক্রীড়া সংশ্লিষ্ঠরা বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় দলের নয়জন খেলোয়াড়ের ব্যপারে আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে আছে। যার মধ্যে ফরোয়ার্ড ফাহাদ আল-মুবালাদ লেভান্তেতে ধারে এক মৌসুম খেলেছেন। এছাড়া উইঙ্গার সালেম আল-দাওসারি ভিয়ারেলের হয়ে মৌসুমের একেবারে শেষের ম্যাচটিতে কয়েক মিনিটের জন্য মাঠে নেমেছিলেন। এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইয়াহিয়া আল-সেহরি লেগানেসে গেলেও একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি। বাছাইপর্বে ১৬ গোল করা মোহাম্মেদ আল-সালাবি তিন সপ্তাহের জন্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গত নয় ম্যাচে গোলবিহীনি রয়েছে।
স্কোয়াড :
রাশিয়া:
গোলরক্ষক : ইগর আকিনফিব (১), ভøাদিমির গাবুলভ (২০), আন্দ্রেই লুনেভ (১২)।
রক্ষণ ভাগ : ভøাদিমির গ্রানাট (১৪), ফিডর কুদরিয়াশভ (১৩), লিয়া কুটেপভ (৩), আন্দ্রেই সেমিনিয়ভ (৫), ইগর স্মলনিকভ (২৩), মারিও ফার্নান্দেস (২), সের্গেই ইগনাশেভিচ (৪)।
মধ্য মাঠ : ইউরি গাজিন্সকাই (৮), এ্যালান ডিজাগোয়েভ (৯), আলেক্সেই মিরানচুক (১৫), আলেক্সান্ডার গোলেভিন (১৭), আলেক্সান্ডার এরোখিন(২১), ইউরি ঝিরকভ (১৮), ডালের কুজিয়ায়েভ (৭), রোমান জোবনিন (১১), আলেক্সান্ডার সামেদভ (১৯), এ্যান্টন মিরানচুক (১৬), ডেনিস চেরিশেভ (৬)।
আক্রমন ভাগ : আরটেম দিজিউবা (২২), ফিওডর সমোলভ (১০)।
কোচ : স্তানিসলাভ চেরচেসভ
সৌদি আরব :
গোলরক্ষক : মোহামেদ আল ওয়াইস (২২), আব্দুল্লাহ আল মেউফ (১), ইয়াসের আল মোসাইলীম (২১)।
রক্ষণ ভাগ : ওসামা হাওসাবি (৩), ওমর হওসাবি (৫), মোতাজ হওসাবি (২৩), আলি আল- বুলাইহি (৪), ইয়াসের আল শাহারানি (১৩), মানসুর আল- হারবি (২), মোহাম্মেদ আল- বুরাইক (৬)।
মধ্য মাঠ : আব্দুল্লা ওতাইফ (১৪), সালমান আল-ফারাজ (৭), আব্দুল্লাহ আল- খাইবারি (১১), আব্দুলমালিক আল খাইবারি (২১), মোহাম্মেদ কানু (১২), হুসেইন আল-মুকাহবি (১৬), তাইসির আল জসিম (১৭), হাত্তান বেহেবরি (৯), সালেম আল- দাওসারি (১৮), ইয়াহিয়া আল শেরি (৮)।
আক্রমন ভাগ : ফাহাদ আল মুবালাদ(১৯), মোহাম্মেদ আল-সালাবি (১০), মোহাম্মদ আসেরি (২০)।
কোচ : হুয়ান এন্টোনিও পিজ্জি