ঢাকা, জুন ২০, ২০১৮, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ০১:৪৮:৩৫

পূজা থেকে শিশুকে ডেকে নিয়ে ‘গণধর্ষণ’, আপোষের হুমকি!

| ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | Saturday, May 26, 2018

 

মানিকগঞ্জে বাবার সঙ্গে পূজা দেখতে গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নামে মামলা হলেও, এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনাটি গত মঙ্গলবার রাতে ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের কলতা গ্রামে ঘটলেও এলাকার প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির পরিবার মামলা করতে পারেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হয়েছে।

মানিকগঞ্জের শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য তাঁকে নির্বাহী হাকিমের কাছে পাঠানো হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শিশুটি মানিকগঞ্জ শহরের একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। গত মঙ্গলবার বাবার সঙ্গে সে ঘিওর উপজেলার কলতা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে পূজা অনুষ্ঠানে যায়। সেখানেই শিশুটি গণধর্ষণের শিকার হয়।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কলতা গ্রামের পূজার অনুষ্ঠানস্থল থেকে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যান একই গ্রামের জনি (২০)। এরপর পাশের মাঠে নিয়ে জনি ছাড়াও একই এলাকার রুবেল (২৬) ও শহিদুল ইসলাম (২৫) শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তাদেরকে হাতেনাতে ধরে ফেললেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শিশুটির ভাই অভিযোগ করেন, ‘গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মজিবর রহমানসহ প্রভাবশালীরা আমাদের মামলা না করতে চাপ দিতে থাকেন। এক লাখ টাকা নিয়ে ঘটনা আপোষ-মীমাংসা করতে বলেন তাঁরা। এতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।’

‘কিন্তু তাদের হুমকি-ধামকি উপক্ষো করে গতকাল বৃহ্স্পতিবার রাতে এ ঘটনায় তিন যুবককে অভিযুক্ত করে ঘিওর থানায় মামলা করেছি’, যোগ করেন শিশুটির ভাই।

নালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর রহমান আপোষের চেষ্টার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েটি ভিন্ন ধর্মের এবং অল্প বয়সী হওয়ার কারণে আপোষের চেষ্টা করেছিলাম।’