ঢাকা, জুলাই ২১, ২০১৮, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ১১:৫২:১৭

নকলে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে রাস্তায় মারধর

আইন ও মানবাধিকার, দেশের খবর | ৯ অগ্রহায়ন ১৪২৪ | Thursday, November 23, 2017

সুনামগঞ্জসুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে জেএসসি পরীক্ষায় নকল করার সুযোগ না দেওয়ায় এক শিক্ষককে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে এক শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত ওই শিক্ষককে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার ওই ঘটনায় আজ বুধবার (২২ নভেম্বর) ক্লাস বর্জন করে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। তারা হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

মারধরের শিকার আহত সীতেশ চন্দ্র সরকার জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক। আর তার ওপর হামলাকারী পরীক্ষার্থী রিয়াজ মাহমুদ শাহ উপজেলা সদর এলাকার নয়াহালট গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা শাহজাহান শাহ’র ছেলে। সে জামালগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এই বছর জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সীতেশ উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড মাঠ দিয়ে বাসায় ফেরার পথে রিয়াজ ও আরও কয়েকজন মিলে তাকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে বেধড়ক পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাকে সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। বুধবার তাকে সিলেটে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এই হামলার প্রতিবাদে বুধবার সকাল ১১টার দিকে ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভূষণ চক্রবর্তী, সহকারী প্রধান শিক্ষক সুব্রত রায়, সহকারী শিক্ষক জ্যোছনেন্দু কুমার সরকার, হোসনে আরা বেগম, নন্দন কুমার রায়, সন্তোস কুমার দাস, সৌমেন শেখর রায়, দেবশ্রি তালুকদার প্রেমা প্রমুখ। তারা শিক্ষক সীতেশ চন্দ্র সরকারের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ওই পরীক্ষার্থীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। না হলে আগামীতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভূষণ চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১৬ নভেম্বর জেএসসি পরীক্ষার শেষ দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখে লেখার চেষ্টা করছিল ওই ছাত্র। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে রিয়াজ নামের ওই ছাত্র পরীক্ষা হলের কোনও নীতিমালাই মানেনি। শৃঙ্খলা বহির্ভূতভাবে অন্যান্য ছাত্রদের খাতা দেখে লিখছিল সে। শিক্ষক সীতেশ চন্দ্র ওই ঘটনায় তাকে সতর্ক করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রিয়াজ বলে-স্যার, এক মাঘে শীত যায় না। ২১ নভেম্বর বিকালে ক্রিকেট খেলে বাড়ি ফেরার সময় ব্যাট দিয়ে শিক্ষক সীতেশের পিঠে, হাতে, কোমরে বেধড়ক পিঠুনি দেয় সে। পিটুনির সময় ব্যাট ভেঙে গেছে। সীতেশ চন্দ্রের হাড়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাকে ওসমানী মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর বাবা শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘ছেলের এই কাজে আমি মর্মাহত। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ক্ষমার অযোগ্য কাজ। এ রকম যেন আর কেউ না করে সেজন্য অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাবো আমি। এই ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত।’