ঢাকা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ১৩:৫৯:০২

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

বাংলাদশ মাইনরিটি ওয়াচের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস-২০১৮ পালিত। মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল ইসিতে খারিজ বিএনপি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে : আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ থাকতে সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান মনোনয়ন না পাওয়া দলের প্রার্থীদের মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ শেখ হাসিনার নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা অবলম্বন করছেন : ইনু রংপুর ৩ এ এরশাদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ : জাপাকে ছাড় দিচ্ছেন না ৯ প্রার্থী ভিকারুননিসা স্কুলের নতুন অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম বাদ পড়লেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ড. শামসুল মিথ্যা তথ্যে রাজস্ব ফাঁকি সম্পদশালীদের ব্যাংকে কোটিপতি ৭০০০০ আয়করে ১২০০০

তফসিল পরবর্তী পুলিশের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি

দেশের খবর, প্রধান সংবাদ | ২৪ কার্তিক ১৪২৫ | Thursday, November 8, 2018

 

নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের সার্বিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

বুধবার বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আইজিপির দফতরের পাশে অবস্থিত কনফারেন্স রুম থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ দিক নির্দেশনা দেন।

কনফারেন্সে তিনি সারাদেশের ৯ মেট্টোপলিটনের পুলিশ কমিশনার এবং ৮ রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকদের (ডিআইজি) সঙ্গে কথা বলেন।

কনফারেন্স সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হতে পারে। তফসিল ঘোষণার পর দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশের ভূমিকা কী হতে পারে সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতেই এ ভিডিও কনফারেন্স।

এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা কনফারেন্সে আইজিপির সঙ্গে ডিআইজি (অপারেশন্স) আনোয়ার হোসেন এবং অতিরিক্ত ডিআইজি (স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) মনিরুজ্জামানসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ কমিশনার ও ডিআইজি অফিসের কনফারেন্স কক্ষগুলোতে পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি), সহকারী উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) এবং পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত সুপাররা উপস্থিত থেকে আইজিপির নির্দেশনা শুনেন।

আইজিপি বলেন, নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কিছু কাউকে করতে দেয়া যাবে না। এ ব্যাপারে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কনফারেন্স আইজিপি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চান। তাৎক্ষণিক কোন প্রয়োজন হলে পুলিশ সদর দফতরকে জানানোর নির্দেশ দেন আইজিপি।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেভাবে ‘আগুন সন্ত্রাস’ চালানো হয়েছিল, সে ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই ঘটতে দেয়া হবে না। এ জন্য পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

কনফারেন্সে অংশ নেয়া একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশকে অধিকতর সতর্ক ও কৌশলী হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুলিশের সবকটি ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সবধরনের গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্ব দিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশির সময় যাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। রাস্তা বা যানবাহনে যে কেউ কোনো ধরনের হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা চোরাগুপ্তা হামলার চেষ্টা করলে শুরুতেই কৌশলে তা মোকাবেলা করা এবং যত দ্রুত সম্ভব পদস্থ কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করতে বলেছেন আইজিপি। বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনার পাশপাশি পুলিশ কমিশনার এবং ডিআইজিদের কাছ থেকে আইজিপি মাঠের খবর জানেন। অতি উৎসাহী ও বিচলিত না হয়ে সর্বোচ্চ ধৈর্য্যধারণ করে তিনি পুলিশকে সবধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার নির্দেশ দেন।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা যুগান্তরকে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ইউনিট প্রধানদের (সব ডিআইজি ও সব কমিশনার) সঙ্গে আইজিপির ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে। সারাদেশে পুলিশের কী প্রস্তুতি রয়েছে, আরও কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সেসব বিষয়ে কনফারেন্সে আলোচনা হয়েছে। আইজিপি সব ডিআইজি এবং কমিশনারদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন। ডিআইজি এবং কমিশনাররা সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতির পাশপাশি নানা বিষয় আইজপিকে অবগত করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার আগে ৬ ফেব্রুয়ারি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী। রায়কে ঘিরে দেশের কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে সে বিষয়ে গাইডলাইন দেয়া হয় ওই ভিডিও কনফারেন্সে।