ঢাকা, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭, ৩ পৌষ ১৪২৪, স্থানীয় সময়: ১৫:৫৩:২১

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সম্পর্ক কী?

স্বাস্থ্য ও বিনোদন | ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২৪ | Friday, December 1, 2017

 

ডায়াবেটিস হলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডায়াবেটিস হলে হৃদযন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৯২৪তম পর্বে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. এম এ রশীদ। বর্তমানে তিনি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ—দুটোর মধ্যে সম্পৃক্ততা কোথায়?

উত্তর : বিষয়টি কিন্তু অত্যন্ত মূল্যবান। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ।  দুটো রোগই কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য।

ডায়াবেটিস অনেক সময় পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকে, জেনেটিক একটি বিষয় থাকে। তবে জীবনের শুরু থেকে যদি আমরা এই রোগ সম্পর্কে অবহিত হই, তাহলে ভালো। শুধু আমরা যদি জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করি, তাহলে উপকার হয়। আমরা যদি কেবল খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করি, প্রতিদিন যেকোনো ব্যায়ামে যদি অভ্যস্ত হয়ে চলতে পারি এবং নিজেদের ওজন যদি আমরা কমিয়ে রাখতে পারি, তাহলে বেশ ভালো। ধূমপান, মানসিক চাপ, এগুলো যদি আমরা এড়িয়ে যেতে পারি, তাহলে ডায়াবেটিস হলেও অনেক দেরিতে হবে। ডায়াবেটিস যদি হয়ও তার জটিলতাগুলো অনেক পরে হবে।

মেডিকেল ভাষায় বলা হয়, মাইক্রোভাসকুলার ও ম্যাক্রোভাসকুলার। আমরা প্রতিরোধ শুরু করব শুরু থেকেই। অর্থাৎ মাইক্রোভাসকুলার কোনো জটিলতা যেন না হয়।

চোখ খারাপ হওয়ার আগেই যদি আমরা চেকআপে রাখি, হার্টের রোগ হওয়ার আগেই যদি আমরা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করি, কিডনির জটিলতাগুলো যদি আমরা আগে থেকে জানি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিই, তাহলে মাইক্রোলেভেই প্রতিরোধ করা যায়। ম্যাক্রোলেভের বলতে যেটি বোঝায় যে সমস্যাটা হয়ে গেছে। যেমন : হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে, চোখের সমস্যা হয়ে গেছে। তখনো ওই অবস্থাতেই যাতে আবার জটিলতা না হয়, যতটুকু হয়েছে ওই অবস্থায় যাতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, এই প্রচেষ্টা করতে হবে। তাহলেও সে মোটামুটি একটি ভালো জীবনযাপন করতে পারবে।

ডায়াবেটিসের সঙ্গে হৃদরোগের ব্যাপক সম্পর্ক রয়েছে।  যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কারণ,  মাইক্রোভাসকুলার পরিবর্তন হতে হতে রক্তের নালিগুলো সংকুচিত হতে থাকে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত এর জটিলতা হয়, মাথায় যে স্ট্রোক হচ্ছে, চোখ নষ্ট হচ্ছে, হার্টে সমস্যা হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে, কিডনির বিষয় রয়েছে, অনেকের পা পচে যাচ্ছে, অনেক সময় পা কেটে ফেলতে হচ্ছে, নানাবিধভাবে সে অক্ষম হয়ে পড়ছে—এ ধরনের সমস্যা হয়।

ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগ মাইক্রোভাসকুলার থেকে ম্যাক্রোভাসকুলার হয়ে যাচ্ছে। এই জন্য ডায়াবেটিসকে বলে করনারি ইকুইভ্যালেন্ট। অর্থাৎ করনারি আর্টারি রোগ। হার্ট তো মূলত একটি পাম্প। এই যে রক্তের পাম্প, কাজ করে সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করছে, পাম্প যে করনারি আর্টারি দিয়ে প্রবাহ পাচ্ছে, তাহলে এই করনারি আর্টারিগুলো যদি সংকুচিত হয়ে যায়, তাহলে অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ কম হবে, একটি পর্যায়ে হার্ট অ্যাটাকের মতো অবস্থা তৈরি হবে। হার্ট যদি অ্যাটাক হয়ে যায়, হার্টের পাম্পিং ক্যাপাবিলিটি কমে যাবে। দেখা যায় যে হার্টের যে কর্মক্ষমতা ছিল, সেটি কমে যাবে। এই কর্মক্ষমতা কমার সঙ্গে হার্ট অন্যান্য যেখানে রক্ত সরবরাহ করে, সেই প্রতিটি জায়গা আক্রান্ত হবে। এটার সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড়। ডায়াবেটিসের সঙ্গে হৃদরোগের গভীর সম্পর্ক।