ঢাকা, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১৮, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪, স্থানীয় সময়: ০০:৩৪:৫৫

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

নাশকতার মামলা এ জেড এম জাহিদসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা ধর্ম অবমাননার মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা যুক্তরাষ্ট্রে তেষ্টায় বন্দির মৃত্যু : ৩ কারা কর্মকর্তা অভিযুক্ত টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চারজনের ফাঁসি কারাগারে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হচ্ছে : আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের সত্যায়িত কপির জন্য দুপক্ষের আবেদন খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দিতে আদালতের নির্দেশ স্ত্রীকে হত্যার পর শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে সম্বন্ধীর স্ত্রীকে হত্যা! যুদ্ধাপরাধে এবার ৩১তম রায়ের অপেক্ষা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা : নোয়াখালীর চার আসামীর রায় যে কোন দিন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চারজনের ফাঁসি

আইন ও মানবাধিকার | ৩০ মাঘ ১৪২৪ | Monday, February 12, 2018

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চারজনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ এবং একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। মাত্র ৭১ দিনের মধ্যে এ বিচার কাজ শেষ হল।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এ কে এম নাছিমুল আখতার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—বাসটির চালক হাবিবুর রহমান (৪৫), চালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (২০)। এ ছাড়া বাসের সুপারভাইজার সফর আলী ওরফে গেদু মিয়াকে (৫৫) সাত বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি যে বাসে রূপাকে ধর্ষণ করা হয় সেই বাসটির মালিকানা পরিবর্তন করে রূপার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আইনজীবী জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত হলে রায়ের জন্য আজকের দিন রাখা হয়।

গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই রূপাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশমাইল এলাকায় বনের মধ্যে তাঁর মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাতপরিচয় নারী হিসেবে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

পরের দিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তাঁর ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে তাঁকে শনাক্ত করেন।

২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের চালকের সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর, চালক হাবিবুর, সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা প্রত্যেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে  আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।

গত ৩ জানুয়ারি মামলার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। মামলার বাদী ও ভাই, জব্দ তালিকা, সুরতহাল রিপোর্ট, চিকিৎসক, পাঁচ আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণকারী চারজন বিচারিক হাকিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৭ জন সাক্ষী আদালতে তাঁদের সাক্ষ্য দেন।