ঢাকা, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮, ২৫ অগ্রহায়ন ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ০৫:৪৯:০৭

টাকা বানানোর কারখানা ঢাকায়!

আইন ও মানবাধিকার | ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | Saturday, June 9, 2018

 

জাল নোট বানানো ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ১০ জনকে আটক করে ডিবি। ছবি : সংগৃহীত

রফিক আগে এক ব্যক্তির সহযোগী হিসেবে জাল নোট বানাতেন। পরে নিজেই কিনে ফেলেন জাল নোট বানানোর সরঞ্জাম। রাজধানীর কদমতলীর পূর্ব জুরাইনে ভাড়া করা এক বাসায় জাল নোট তৈরীর কারখানা খুলেন। রফিক ও তাঁর দল ঈদকে সামনে রেখে জাল নোট বানানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়।

বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকসহ ১০ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। জুরাইনের ওই বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক কোটি টাকা। যার সবটাই জাল!

ওই বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় জাল নোট তৈরীর সরঞ্জাম। আজ শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডিবির অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, আটক হওয়া ১০ জনই বিভিন্ন সময় জাল নোট প্রস্তুতসহ নানা অপরাধে কারাভোগ করেছেন। জামিনে বেরিয়ে আবারও প্রতারণাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ঈদ সামনে রেখে চক্রটি বড় অঙ্কের জাল টাকা বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করছিল।

আটক হওয়া ১০ জন হচ্ছেন রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন শিকদার ওরফে রাজা ওরফে রাজু, খোকন ওরফে শাওন, রিপন, মনির, সোহরাব, জসিম ও লাবনী।

দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, চক্রটির মূল হোতা রফিক প্রথমে নোয়াখালীর ছগির মাস্টার নামে এক ব্যক্তির সহযোগী হিসেবে জাল নোট প্রস্তুত করতেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেই সরঞ্জাম কিনে রাজধানীর কদমতলীর পূর্ব জুরাইনের বউ বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় জালনোট তৈরীর কারখানা খুলে বসেন। তিনি তাঁর অন্যতম সহযোগী রাজন শিকদার ও লাবনীসহ অন্যদের নিয়ে ওই এলাকায় জাল নোট প্রস্তুত ও বাজারে ছাড়ার কাজ করতেন। জাকির কাগজে বিভিন্ন ধরনের জলছাপ ও নকল নিরাপত্তা সুতা স্থাপন করতেন।

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটি জানিয়েছে, এক লাখ টাকার নকল নোট তৈরি করতে  খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। এরপর এক লাখ টাকা পাইকারি বিক্রি করা হয় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। পাইকারি বিক্রেতা প্রথম খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রথম খুচরা বিক্রেতা দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় খুচরা বিক্রেতা মাঠ পর্যায়ে সেই টাকা সমমূল্যে অর্থাৎ এক লাখ টাকায় বিক্রি করে। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা সেই টাকা অত্যন্ত কৌশলে বাজারে ছড়িয়ে দেয়।

আটক হওয়া ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান দেবদাস ভট্টাচার্য।