ঢাকা, জানুয়ারী ১৮, ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ১৬:১৬:৩৫

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

পূবালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তিন ব্যবসায়ীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ এমপিদের শপথ নেওয়ার বৈধতা নিয়ে আদেশ কাল ঢাকা উত্তর সিটির উপ-নির্বাচন হতে আইনগত বাধা নেই চালক সংকট কাটাতে লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্ত শিথিল করল বিআরটিএ হিযবুত তাহরীরের ৬ জনের বিরুদ্ধে রায় ৩০ জানুয়ারি জাবালে নূরের মালিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ ২২ জানুয়ারি সরকারি কৌঁসুলিদের পদত্যাগের আহ্বান আইনমন্ত্রীর তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার : আইনমন্ত্রী একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির দায়ে ব্যবসায়ীর ৭ বছর সাজা

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি

আইন ও মানবাধিকার, দেশের খবর | ১৪ কার্তিক ১৪২৫ | Monday, October 29, 2018

 

জামায়াতের নিবন্ধন চূড়ান্তভাবে বাতিল, ইসির প্রজ্ঞাপন

রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে রোববার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

২০১৩ সালে হাইকোর্টের রায়ে নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণার পাঁচ বছর পর এ দলটির বিষয়ে এমনই পদক্ষেপ নিল ইসি। এর ফলে দলটি দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আপিল বিভাগে দলটির পক্ষ থেকে আপিল আবেদন থাকায় এত দিন নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেনি কমিশন। সম্প্রতি কমিশন মনে করেছে, আপিল আবেদন হলেও তা স্থগিত না থাকায় হাইকোর্টের রায় প্রতিপালনে কোনো বাধা নেই, তাই দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়া গেছে। ওই রায়ের প্রতিপালন করতেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ইসির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হয়েছে। দলটির বিরুদ্ধেও রয়েছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ। আইন করে দলটি নিষিদ্ধের প্রক্রিয়ার মধ্যে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করল।

সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সংগ্রহ করে ইসির আইন শাখা। ওই রায়ের ভিত্তিতেই জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করার অনুমোদন চেয়ে কমিশনে ফাইল তোলা হয়। এরপরই তা অনুমোদন করে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানো হয়।

ইসির প্রজ্ঞাপনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নম্বর ৬৩০/২০০৯ এর প্রদত্ত রায়ে আদালত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৯০(এইচ) এর উপধারা ৪ অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিল করা হলো।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন পেয়েছিল। নিবন্ধন নম্বর-১৪।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নির্বাচন কমিশনের দেয়া নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে রিট আবেদন করেন তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন ব্যক্তি।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল জারি করেন। এরপর ২০১৩ সালের বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

আরও জানা যায়, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই আপিল করেছিল জামায়াত। ওই আবেদনের বিষয়টি এখন পর্যন্ত সুরাহা হয়নি।