ঢাকা, জানুয়ারী ২০, ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ০৪:৪৫:১৯

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

পূবালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তিন ব্যবসায়ীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ এমপিদের শপথ নেওয়ার বৈধতা নিয়ে আদেশ কাল ঢাকা উত্তর সিটির উপ-নির্বাচন হতে আইনগত বাধা নেই চালক সংকট কাটাতে লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্ত শিথিল করল বিআরটিএ হিযবুত তাহরীরের ৬ জনের বিরুদ্ধে রায় ৩০ জানুয়ারি জাবালে নূরের মালিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ ২২ জানুয়ারি সরকারি কৌঁসুলিদের পদত্যাগের আহ্বান আইনমন্ত্রীর তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার : আইনমন্ত্রী একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির দায়ে ব্যবসায়ীর ৭ বছর সাজা

চালক সংকট কাটাতে লাইসেন্স প্রাপ্তির শর্ত শিথিল করল বিআরটিএ

আইন ও মানবাধিকার, দেশের খবর | ১ মাঘ ১৪২৫ | Monday, January 14, 2019

মধ্যম ও ভারী মোটরযানের লাইসেন্স পাওয়ার শর্ত ছয় মাসের জন্য শিথিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ফলে তিন বছরের পরিবর্তে মাত্র এক বছরের অভিজ্ঞতা দিয়েই এ দুই শ্রেণীর মোটরযানের লাইসেন্স পাবেন চালকরা।

বিআরটিএর কর্মকর্তারা চালক সংকট কাটাতে সাময়িকভাবে এমন উদ্যোগ নেয়ার কথা বললেও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মাধ্যমে অদক্ষ চালকদের বৈধতা দেয়া হলো।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে নিবন্ধিত মোটরযান আছে প্রায় ৩৮ লাখ। এর বিপরীতে বিআরটিএ অনুমোদিত চালকের সংখ্যা ১৯ লাখ। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, ঢাকা মহানগরীতে ২০ লাখ নিবন্ধিত মোটরযানের বিপরীতে চালক রয়েছেন ১৪ লাখ। একইভাবে লক্ষাধিক ভারী মোটরযানের বিপরীতে লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা মাত্র ২১ হাজার এবং সাড়ে পাঁচ লাখ হালকা মোটরযানের বিপরীতে লাইসেন্সধারী চালক আছেন চার লাখের সামান্য বেশি। চালক সংকট থাকলেও মধ্যম ও ভারী মোটরযান রাস্তায় ঠিকই চলছে। এগুলোর বড় একটা অংশ চালাচ্ছেন অদক্ষ চালকরা, যাদের সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালানোর লাইসেন্সই নেই। এ অবস্থায় বৈধ চালক সংকট মেটাতে গত ২৬ ডিসেম্বর বিআরটিএর সংস্থাপন অধিশাখা থেকে জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পরীক্ষার পর চালককে প্রথমে হালকা মোটরযানের (ওজন ২৫০০ কেজির নিচে) পেশাদার লাইসেন্স প্রদান করা হয়। তিন বছর হালকা মোটরযান চালানোর পর একজন চালক মধ্যম শ্রেণীর মোটরযান (২৫০০-৬৫০০ কেজি) চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠেন। একইভাবে তিন বছর হালকা মোটরযান চালানোর পর চালককে ভারী মোটরযান (৬৫০০ কেজির উপরে) চালানোর জন্য পেশাদার লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এ নিয়মই শিথিল করে হালকা ও মধ্যম শ্রেণীর মোটরযান চালানোর অভিজ্ঞতা তিন থেকে কমিয়ে এক বছর নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ, যা ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

চালক সংকট মোকাবেলায় হালকা ও মধ্যম শ্রেণীর লাইসেন্সধারী চালকদের যথাক্রমে মধ্যম ও ভারী মোটরযান চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সে মধ্যম বা ভারী মোটরযান-সংশ্লিষ্ট শর্ত ছয় মাসের জন্য শিথিল করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ৩০ জুন থেকে লাইসেন্স প্রদানের নিয়ম আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। এ সময়ের মধ্যে যেসব নতুন চালক মধ্যম ও ভারী মোটরযান চালানো শুরু করেছেন, তাদের মধ্যম ও ভারী মোটরযানের লাইসেন্স করে নিতে হবে।

বিআরটিএর এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের ভারী মোটরযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নেই, তাদের সেই মোটরযানের লাইসেন্স দেয়ায় সড়ক পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে। পড়বে সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রভাব।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, গত ঈদুল ফিতরে সমস্যাটি প্রকট আকারে দেখা দিয়েছিল। ওই সময় বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত যখন লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে, তখন দেখা যায়, বেশির ভাগ ভারী মোটরযান চালকের সংশ্লিষ্ট যান চালানোর লাইসেন্স নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে চালকরাও পাল্টা হুমকি দেন ঈদের সময় যানবাহন বন্ধ রাখার। এখন লাইসেন্স পাওয়ার শর্ত শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সেই চালকদের সঙ্গেই সমঝোতা করল বিআরটিএ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিআরটিএর এটি চরম ব্যর্থতা। কারণ তারা আগেই জানত, দেশে মধ্যম ও ভারী মোটরযানের চালক সংকট রয়েছে। এমন অবস্থায় বিআরটিএর প্রথম কাজ ছিল মধ্যম ও ভারী মোটরযানের নিবন্ধন কমিয়ে দেয়া। পাশাপাশি দক্ষ চালক তৈরির প্রতি নজর দেয়া। এমনটা করলে নিজেদের আইন নিজেরাই ভাঙার সংস্কৃতি বিআরটিএকে তৈরি করতে হতো না।

লাইসেন্স পাওয়ার শর্ত শিথিলের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমত. এর মধ্য দিয়ে একটা খারাপ সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেল। চালকদের মধ্যে মনোভাব তৈরি হয়ে গেল, সব শর্ত পূরণ না করেও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে চালকরা একই ধরনের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে যাবেন। আর দ্বিতীয় বিষয়টা হলো, বর্তমানে সড়কে যে বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, যানজট, হতাহতের ঘটনা ঘটছে, সেগুলো থেকেও বের হওয়ার রাস্তাটা এর মাধ্যমে আরো কঠিন হয়ে পড়বে।