ঢাকা, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮, ২৫ অগ্রহায়ন ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ০৫:৪৯:১৩

গাড়িতে তুলে ধর্ষণচেষ্টায় আটক ১, ভিডিও ভাইরাল

আইন ও মানবাধিকার | ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | Sunday, June 10, 2018

 

রনি হক। ছবি : ফেসবুক থেকে

রাজধানীর সংসদ ভবনের সামনে থেকে প্রাইভেটকারে এক নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রনি হক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ।

গতকাল শনিবার রাতে মোহাম্মদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

আজ রোববার দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি জি বিশ্বাস এনটিভি অনলাইনকে জানান, আটক রনির জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা রনি হককে থানায় আটক করে রেখেছি। আমরা মূল ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজ উদ্দীন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘গতকাল রাত ২টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজগেট চেকপোস্ট থেকে আমরা তাঁকে থানায় নিয়ে আসি। তখন রনিকে আমরা মদ্যপ অবস্থায় পাই। তখন আমরা রনির গাড়িসহ তাঁকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি।’

রনিকে কেন আটক করা হয়েছে—জানতে চাইলে এই উপপরিদর্শক বলেন, ‘গতকাল রাতে রনি সংসদ ভবনের সামনে থেকে একটি মেয়েকে প্রাইভেটকারে করে তুলে মোহাম্মদপুরের দিকে নিয়ে আসে। সম্ভবত ওই মেয়েকে রনি ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এর পরে স্থানীয়রা সেটা বুঝতে পেরে রনিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গণধোলাই দেয়। তারপরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। এরপরে আমরা থানায় নিয়ে আসি।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনির কাছ থেকে কিছু জানা গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মিনহাজ উদ্দীন বলেন, ‘ওই মেয়েকে তিনি প্রাইভেটকারে করে তুলে আনেন সংসদ ভবনের সামনে থেকে। এর বাইরে আর কিছু আমি বলতে পারবো না।’

এদিকে মোহাম্মদপুর এলাকায় রনিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গণধোলাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা রনিকে চড়-থাপ্পড় মারছেন, গণধোলাই দিচ্ছেন। সেখানে জনতার মুখে একজন নারীর খোঁজ নেওয়ার কথাও শোনা যায়।

ভিডিওটি প্রথম ফেসবুকে পোস্ট করেন রাফি আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, অফিস থেকে ফেরার পথে মোহাম্মদপুরের কলেজগেট সিগন্যালে একটি গাড়ির ভেতর একজন পুরুষ ও নারীকে ধস্তাধস্তি করতে দেখতে পান। গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি গাড়িটিকে অনুসরণ করতে থাকেন। সড়কে যানজট থাকায় গাড়িটি দ্রুত চলতে পারছিল না। এর মধ্যে আরো কয়েকজন বিষয়টি লক্ষ করেন এবং রাফি আহমেদসহ আরো কয়েকজন গাড়িটির সামনে গিয়ে দেখতে পান ভেতরে একজন নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তখন ঢাকা মেট্রো-গ-২৯-৫৪১৪ নম্বরের ওই গাড়িটি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে ওই নারী জানান, রাস্তা থেকে জোর করে তুলে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে রনি হক ও তাঁর গাড়ির চালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।