ঢাকা, জুন ২০, ২০১৮, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ০১:৫৬:৪১

খাগড়াছড়িতে বন্যার্তদের জন্য ৪৮ আশ্রয় কেন্দ্র

আইন ও মানবাধিকার | ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | Wednesday, June 13, 2018

 

আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর খাগড়াছড়ি জেলা শহরের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সেই সঙ্গে আশ্রয় শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত তিন হাজার পরিবার।

খরস্রোতা ফেনী ও মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি ও ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক ও দীঘিনালা-মেরুং-রাঙামাটির লংগদু সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। খাগড়াছড়ি-রামগড় -ঢাকা সড়কে বাস ট্রাক চলাচল শুরু করলেও ছোট গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয় যে, দুর্গতদের জন্য জেলায় ৪৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুই বেলা খাবারসহ আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ির আলুটিলা, রামগড়ের নাকাপা এলাকায় রাস্তার ওপর পাহাড়ধসের কারণে পড়ে থাকা মাটি অপসারণ করেছে সড়ক বিভাগ। এ ছাড়া জেলার আলুটিলা, সবুজবাগ, শালবন, কুমিল্লা টিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস দেখা দিয়েছে। এতে প্রাণহানি না হলেও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করেছে প্রশাসন।

দুপুরে সদর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি সদর জোনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের মধ্যে ডিম খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৌর এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পৌরসভার মাধ্যমে এবং অন্যান্য আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দুই বেলা খাবারসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হবে।