ঢাকা, এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ৫ বৈশাখ ১৪২৬, স্থানীয় সময়: ০২:৩৫:২৭

এফআর টাওয়ারে আগুন ॥ তাসভীর ও ফারুক গ্রেফতার

আইন ও মানবাধিকার, দেশের খবর | ১৮ চৈত্র ১৪২৫ | Monday, April 1, 2019

 

এফআর টাওয়ারে আগুন ॥ তাসভীর ও ফারুক গ্রেফতার

২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনে হতাহতের ঘটনায় ওই ভবনের দুই মালিক বিএনপি নেতা তাসভীর উল ইসলাম ও প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদের মধ্যে ফারুক ওই ভবনের জমির মালিক। আর কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভীর ওই ভবন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাসভীর প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এফআর টাওয়ারের ২১ থেকে ২৩তলা পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের অফিস।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বারিধারার বাসা থেকে তাসভীরকে গ্রেফতার করা হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাজাহান সাজু জানান।এরপর শনিবার দিবাগত পৌনে ২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এফআর টাওয়ারে আগুন লেগে ২৬ জনের মৃত্যু এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। ওই ভবনে যথাযথ অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এটি ভবন নির্মাণ নীতিমালা অনসুরণ করে তৈরি করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে শনিবার দুপুরেই জানিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।তিনি মামলার বাদী ও আসামিদের সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। এরপর রাতেই এই দুজনকে গ্রেফতার করা হল।

বৃহস্পতিবার বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনে ২৬ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হন

কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ৩২ নম্বর হোল্ডিংয়ে এফআর টাওয়ারের জমির মূল মালিক ছিলেন এস এম এইচ আই ফারুক। ওই জমিতে ২০০৫ সালে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে রূপায়ন গ্রুপ। দুই বছর পর ভবনটি চালু হয়। আধাআধি মালিকানা হওয়ায় ভবনটির নাম তখন দেওয়া হয় ফারুক-রূপায়ন টাওয়ার; সংক্ষেপে এফআর টাওয়ার।

রূপায়ন পরে তাদের মালিকানায় থাকা বিভিন্ন ইউনিট বিক্রি করে দেয়। সব মিলিয়ে ২৩ তলা ওই ভবনের সবগুলো ইউনিটের মালিক এখন ফারুক ও তাসভীরসহ মোট ২৪ জন। বিভিন্ন ফ্লোর তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।

২১ থেকে ২৩ তলা পর্যন্ত অফিস রয়েছে তাসভীরের প্রতিষ্ঠানের, তিনিই ভবনটি পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাসভীর একাদশ সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর) বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। ব্যবসায়ী তাসভীর রাজনীতিতে আসেন ২০০৬ সালে। তবে তার বড় ভাই এ কে এম মাঈদুল ইসলাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। পরে এইচ এম এরশাদের আমলেও মন্ত্রী হয়েছিলেন মাইদুল। দশম সংসদেও জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তিনি।

এফআর টাওয়ারে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা না থাকা এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করার দিকে ইঙ্গিত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, সেখানে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি দুর্ঘটনা নয়, এটি ‘হত্যাকাণ্ড’।বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। অর্ধশতাধিক মানুষ দগ্ধ ও আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।