ঢাকা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ১৪:১২:২৫

অরিত্রীর আত্মহত্যা অনুসন্ধানে কমিটি গঠনের নির্দেশ

আইন ও মানবাধিকার | ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৫ | Tuesday, December 4, 2018

 

অরিত্রী অধিকারী। ছবি : সংগৃহীত

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর (১৫) আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ওই অনুসন্ধান কমিটিতে থাকবেন, একজন মনোবিদ, একজন আইনজ্ঞ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি ও একজন শিক্ষাবিদ।
এ ছাড়া আত্মহত্যা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি জাতীয় কাউন্সেলিং কমিটি গঠন ও একটি নীতিমালা নির্ধারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
আদালতে অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা নজরে আনেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া,অনিক আর হক,আইনুন নাহার সিদ্দিকা প্রমুখ।

পরে ব্যারিস্টার অনিক আর হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনানিকালে আদালত এ ধরনের ঘটনা দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। তাই শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন তাদের কাউন্সেলিং এবং শিক্ষকদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন করে কাউন্সেলরের পদ সৃষ্টি এবং নিয়োগের বিষয়গুলো তুলে ধরে একটি নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।’

এর আগে সকালে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চে আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত অরিত্রী অধিকারী আত্মহত্যার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রার্থনা করছি। তখন আদালত বলেন, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা খুবই হৃদয় বিদারক।’ এ সময় শিক্ষার্থীর সামনে বাবা-মাকে অপমানের ঘটনাকে বাজে রকমের দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন আদালত।

গতকাল ৩ ডিসেম্বর স্কুল থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ায় এবং নিজের সামনে বাবা-মাকে অপমান করায় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রধান শাখার অরিত্রী অধিকারী নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। অরিত্রী প্রভাতী শাখার ইংলিশ ভার্সনের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শান্তিনগরের নিজেদের বাসা থেকে অরিত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, বড় মেয়ে অরিত্রী, ছোট মেয়ে ঐন্দ্রিলা ও স্ত্রী বিউটিকে নিয়ে শান্তিনগরের একটি বাসায় থাকেন তিনি। গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। তিনি কাস্টমসের সিঅ্যান্ডএফের ব্যবসা করেন। ছোট মেয়ে ঐন্দ্রিলাও একই স্কুলের শিক্ষার্থী।