ঢাকা, এপ্রিল ২৩, ২০১৮, ১০ বৈশাখ ১৪২৫, স্থানীয় সময়: ১৭:৫১:১৩

অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের মেয়েরা

স্বাস্থ্য ও বিনোদন | ১৯ চৈত্র ১৪২৪ | Monday, April 2, 2018


অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের মেয়েরাচ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ : মালয়েশিয়া, ইরানের পর হংকংকেও বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের মেয়েরা। ‘জকি ক্লাব আন্তর্জাতিক যুব ফুটবল’ টুর্নামেন্টের ফাইনালে পরিণত হওয়া ম্যাচটি জিতল ৬-০ গোলে। চ্যাম্পিয়নদের গৌরব তো আছেই, সঙ্গে মাত্র তিন ম্যাচে ২৪ গোলের কৃতিত্বও দিয়েছে উৎসবের উপলক্ষ। ছবি : বাফুফে

২০১৫ থেকে শুরু হয়েছে মেয়েদের ফুটবলের জয়যাত্রা। তা এখনো চলছে সগৌরবে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপের টানা দুই আসরের শিরোপা জেতা দিয়ে শুরু, মাঝখানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই জয় আর কিছুদিন আগে সাফের মুকুট মাথায় দেওয়া কিশোরী মেয়েরা কাল জয়ের পতাকা উড়িয়েছে হংকংয়ে। ইরান, মালয়েশিয়া, হংকংয়ের মতো দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ২৪ গোল দিয়ে আসা এবারের শিরোপা যে অবিশ্বাস্য!

প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ১০-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েই শোরগোল ফেলেছিল তহুরা, মারিয়ারা। পরের ম্যাচে একই রকমভাবে ইরানকে বিধ্বস্ত করে ৮-১ গোলে। ছেলেদের ফুটবল শুধু নয়, মেয়েদের ফুটবলেও ইরান, মালয়েশিয়া শীর্ষ কাতারে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬তেই তাদের সেই আধিপত্য ভেঙে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটা যে শুধু চমক ছিল না, বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল গত তিন বছরের ব্যবধানে যে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে তারই জলজ্যান্ত ছবি এঁকে টানা দুই ম্যাচে এমন সাড়া ফেলা জয়ের পর কাল শেষ ম্যাচে স্বাগতিক হংকংকেও নাস্তানাবুদ করেছে তারা ৬-০ গোলে। এ যেন নতুন বাংলাদেশ। যেখানেই পা রাখছে এই কিশোরীরা, তা-ই করে নিচ্ছে নিজেদের। ঢাকায় ভারতকে দুইবার হারিয়ে বলে-কয়ে সাফ জয়টাই তো বিস্ময় জাগিয়েছিল। হংকংয়ে চার জাতি টুর্নামেন্ট ‘জকি ক্লাব আন্তর্জাতিক যুব ফুটবল’-এ এমন আধিপত্যমূলক পারফরম্যান্সের পর কোচ গোলাম রব্বানী নিজেই বিস্মিত, ‘সাফে চারটি ম্যাচ আমরা যেভাবে খেলেছিলাম। হংকংয়েও সেই একই ছন্দে খেলেছে মেয়েরা। আমার কাছে এটা আশ্চর্যজনক মনে হয়েছে। ওদের নৈপুণ্যের কোনো উত্থান-পতন হয়নি। প্রতিটি ম্যাচে একই রকমভাবে আধিপত্য নিয়ে খেলেছি আমরা।’

এই কোচের হাত ধরেই মেয়েদের ফুটবলের এই পঞ্চম শিরোপা। এর পেছনে যথেষ্ট পরিশ্রম, ত্যাগ শিকারকেই বড় করে দেখেছেন, ‘কঠোর পরিশ্রম করেছে বলেই ওরা এই পারফরম্যান্সটা ধরে রাখতে পেরেছে। গত কয়েকটা মাস মেয়েরা টেকনিক্যালি, ট্যাকটিক্যালি, ফিজিক্যালি, মেন্টালি—সব দিক দিয়ে উন্নতি করেছে।’

২০১৫তে নেপালে প্রথমবারের মতো এএএফসি রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পরপরই ওই দলের ফুটবলাররা বাফুফের রাডারে। শুধু নজর রাখা নয়, তাদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে শুরু হয় ক্যাম্প। সেই দলেরই কৃষ্ণা, সানজিদারা পরে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্ব খেলেছে এশিয়ার সেরা সাত দলের সঙ্গে। এরই মাঝে রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় শিরোপা দিয়ে উঠে আসে তহুরা, মারিয়া, অনুচিং, আনাইদের আরেকটি গ্রুপ। সাফ জিতে তারাই এবার মাতাল হংকং। প্রথম দুই ম্যাচে দাপটের সঙ্গে জিতে কাল শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তেই ছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরাও কোনো বাধা হতে পারেনি। ইরান ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা তহুরা কাল আবার করেছেন হ্যাটট্রিক। প্রথম ম্যাচে দুই গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে আট গোল করে বাংলাদেশের এই স্ট্রাইকারই জিতেছে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। সেরা খেলোয়াড় হওয়া শামসুন্নাহারেরও (জুনিয়র) চার গোল। শেষ ম্যাচে তহুরার হ্যাটট্রিকের পাশে অন্য তিন গোল শামসুন্নাহার সিনিয়র, অনুচিং মোগিনি ও সাজেদা খাতুনের। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছিল তহুরা। বিরতির আগে আরো এক গোল তার, মাঝখানে এক গোল করে সাজেদা। তাতে ৩-০তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তহুরার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা গোলের পর লক্ষ্য ভেদ করে অনুচিং আর সাজেদাও। তাতেই অর্ধডজন গোলে এই জয় কিশোরী দলের।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : বাসস জানায়, হংকংয়ে আয়োজিত চার জাতি জকি সিজিআই যুব ফুটবল টুর্নামেন্টে শিরোপা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের ফুটবল দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথক অভিনন্দনবার্তায় টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করায় এই ফুটবল দলের সব খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে অভিন্দন জানান তাঁরা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের বিজয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে।